শিরোনাম
  বিধি-নিষেধ শিথিলতার মেয়াদ আর বাড়ছে না,চলবে ৫ আগস্ট পর্যন্ত       জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সাকিবের ব্যাটে বাংলাদেশের সিরিজ জয়       মাগুরায় সরকারি ভাতাভোগীর টাকা অন্যের মোবাইলে       অ্যাডভোকেট শফিকুল আলমের মৃত্যুতে পরিকল্পনামন্ত্রীর শোক       পল্লীবন্ধু হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল       পাগলা বাজারে মনসুর ফ্যাশনের উদ্বোধন       নরসিংদীতে কাভার্ডভ্যান-লেগুনা সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৬       মেসেঞ্জারে ঢাবি ছাত্রীকে হেনস্তা, তদন্ত কমিটি গঠন       সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করোনা আক্রান্ত       ইভ্যালি’র কার্যালয়ে তালা, হটলাইনেও মিলছে না সাড়া!    


Spread the love

“সত্য ঘটনা অবলম্বনে মায়ের খোলা চিঠি”

হ্যাঁ, ২০ বছর আগে ঠিক আজকের এই দিনটাতে আমার কোল আলো করে এসেছিলি তুই। সেদিন সকাল থেকেই টের পাচ্ছিলাম আজ কিছু ঘটবে, আমার পরম আরাধ্যজন আজ আসবে আমার কোলে। তাই কঠিন, অসহ্য সেই যন্ত্রণা আমাকে ভুলিয়ে রেখেছিলো এই কথাটি ভেবে, সে আসছে, আমি তাকে আমার দু’চোখ ভরে দেখবো।গভীর আলিঙ্গনে আবদ্ধ করে আমি আমার দীর্ঘ নয় মাসের তৃষ্ণা মেটাবো।

অবশেষে তুই আমার কোল জুড়ে এলি। হ্যাঁ, আমি স্পষ্ট মনে করতে পারছি তোর নীল গভীর চোখ, গোলাপী ঠোঁট আর কুচকুচে কালো চুলের সেই অপার সৌন্দর্য। আমি অবাক বিস্ময়ে তাকিয়েছিলাম আর আমার চোখ দিয়ে বাঁধ না মানা অশ্রু ভিজিয়ে দিচ্ছিলো তোর টুকটুকে গোলাপী গাল!
আমার মনে পড়ছে রাস্তায় বের হলে অজান্তেই তোর হাত চলে আসতো আমার হাতের মুঠোয়। বেড়াতে বের হলে ছোট্ট দুই বেনী দুলিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে হাঁটতি আর খুব হাসতি। শুধু হাসতি। ছোটবেলা থেকে খুব পাকা পাকা কথা শিখে গিয়েছিলি তুই! কী সব অদ্ভুত অদ্ভুত কথা বলতিস!

কোনো কারণে স্কুলে না যেতে পারলে তোর সে কি কান্না! মনে হয় ‘নালন্দা’ই ছিলো তোর অক্সিজেন। এখান থেকে প্রাণ ভরে অক্সিজেন নিতিস তুই।
অফিসের কাজের প্রয়োজনে আমাকে অনেকটা সময়ই তোর কাছ থেকে দূরে থাকতে হতো। বাসায় ফিরে ভীষণ ক্লান্ত এই আমি যদি তোকে সময় দিতে না পারতাম, খুব অভিমান করতি তুই। তবে ধীরে ধীরে তুই মানিয়ে নিতে শিখে গিয়েছিলি এই জীবনটাকে।

আমার সময় দেয়ার অভাবটা পূরণ করার চেষ্টা করতো আমার মা (তোর বুগো), তোর মামা আর তোর খালামনিরা, যাদেরকে তুই নাম ধরে ডাকতিস।

সর্বনাশ টা শুরু হয়েছিলো তোর বুগো’র মৃত্যুর পর থেকেই। জীবনের প্রয়োজনেই সবাই ব্যস্ত হয়ে যাচ্ছিলো আর তুই ক্রমশ একা হয়ে যাচ্ছিলি। শারীরিক এবং মানসিক এই দুই সান্নিধ্যেরই খুব অভাব হচ্ছিলো তোর।
বিভিন্ন কারণে তোর বাবার সাথে তোর কখনোই সখ্যতা তৈরি হয়নি, অন্যদিকে আমি তোকে সময় দিতে পারছিলাম না পরবর্তীতে কাছের মানুষদের কাছ থেকে পাওয়া অযাচিত যন্ত্রণা তোকে ধীরে ধীরে গভীর বিষন্নতায় আক্রান্ত করে ফেলেছিলো। ফলত তোর নি:সঙ্গতাকেই তুই তোর সঙ্গী করে নিয়েছিলি।

তুই নিজে বুঝতে পেরেছিলি তোর মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজন। বলেছিস আমাকে। কিন্তু যাদের কাছেই তোকে নিয়ে গেছি, তাদের ওপর আস্থা রাখতে পারিসনি তুই।

নি:সঙ্গতা থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় একজন ভুল মানুষকে কাছের বন্ধু হিসেবে নির্বাচন করেছিলি এবং এর জন্যেও তোকে এবং আমাদের পুরো পরিবারকে অনেকবার মাশুল দিতে হয়েছে।

জানিনা এসব কারণেই হয়তো মৃত্যুকেই তোর পরম আরাধ্য মনে হয়েছিলো।

অপার সম্ভাবনা নিয়ে এই প্রথিবীতে তুই এসেছিলি, হেরে যেতে আসিস নি।বেঁচে থাকলে হয়তো তোর অবদানে এই পৃথিবী অনেক সম্বৃদ্ধ হতো। আমাদের অজ্ঞতার কারণে সেটা আর হয়ে উঠলো না। তাই দু’হাত পেতে তোর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করছি মা! ক্ষমা করে দিস এই অক্ষম মা কে।

হয়তো শেষ মুহূর্তে তোর মনে হয়েছিলো তুই মৃত্যুর চেয়ে অনেক বড়, তুই হেরে যেতে আসিস নি। তাই জাগতিক এই দু:খ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায়ই হয়তো এই পথটাকেই বেছে নিয়েছিস।

শুভ জন্মদিন, মৃত্যুঞ্জয়ী মা আমার!

শান্তিবার্তা ডটকম/২৯ ডিসেম্বর ২০২০/ তনুজা কামাল(মা)