শিরোনাম


বিশেষ প্রতিনিধিঃ

অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা মরমী বৈষ্ণব সাধক কবি রাধারমণ দত্তের ১০৫তম প্রয়াণ দিবসে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে স্মরণসভা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে জগন্নাথপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে রাধারমণ মিলনায়তনে এই সভা হয়।এতে সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মো. মেহেদী হাসান।

শিক্ষক অনন্ত পালের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জয়নাল আবেদিন, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার অরূপ কুমার রায়। সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীবৃন্দ সংগীত পরিবেশন করেন।

উল্লেখ্য, মরমী কবি রাধারমন দত্ত পুরকায়স্থ জন্মগ্রহন করেন ১২৪০ বঙ্গাব্দে বা ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে জগন্নাথপুর উপজেলার পৌর এলাকার কেশবপুরে। পিতার নাম রাধা মাধব দত্ত পুরকায়স্থ ও মাতার নাম সুবর্ণা দেবী। রাধারমন দত্তের সাধনা ছিল সহজিয়া বৈঞ্চব পদ্ধতি। সংগীত ছিল তার সাধনার অন্তর্ভূক্ত। প্রায় ৩২ বছর তিনি সাধনা করেছেন। রাধারমন দত্ত প্রায় ৮২ বছর বয়সে ১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দে অর্থাৎ ১৩২২ বাংলার ২৬ কার্তিক শুক্রবার শুক্লা ষষ্ঠিতে পরলোক গমন করেন।

বৈষ্ণব কবি রাধারমণ দত্ত একাধারে গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী ছিলেন। বিভিন্ন সংগ্রাহকদের মতে, রাধারমণে গানের সংখ্যা তিন হাজারেরও উপরে। সাধক রাধারমণের গানের বেশ কিছু গানের বই বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে। অধ্যাপক যতীন্দ্র মোহন ভট্টাচার্য প্রথমে রাধারমণ দত্তের গান সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। কলিকাতা থেকে ‘বাউল কবি রাধারমণ’ নামে ৮৯৮ টি গান নিয়ে একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। মোহাম্মদ মনসুর উদ্দীন তার হারামনি গ্রন্থের সপ্তম খন্ডে রাধারমণের ৫১ টি গান অন্তর্ভুক্ত করেন।

এছাড়াও রাধারমণ সংগীত, সম্পাদক মোহাম্মদ আসরাফ হোসেন, সাহিত্যরত্ন, ভানুগাছ, শ্রীহট্ট, (দ্বিতীয় সংস্করণ ১৩৩৬ বঙ্গাব্দ), ‘ভাইবে রাধারমণ বলে’ (১৯৭৭) সম্পাদনা মুহম্মদ আবদুল হাই সুনামগঞ্জ, শ্রীহট্ট, সিলেটের মোদন মোহন কলেজের সাহিত্য পরিষদ থেকে ‘রাধারমণ সঙ্গীত’ নামে চৌধুরী গোলাম আকবর সাহিত্যভূষনের সংগ্রীহিত একটি গ্রন্থ ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। অধ্যাপক নন্দলাল শর্মা ‘রাধারমণের হাজার কবিতা’ নামে একটি সংকলন প্রকাশ করেছেন। ঢাকার অ্যার্ডন পাবলিকেন্স প্রকাশ করেছে সুমনকুমার দাশ সম্পাদিত ‘অগ্রন্থিত রাধারমণ’। আরও অনেক বিদগ্ধজন রাধারমণ দত্তের গান সংগ্রহ করেছেন।

শান্তিবার্তা ডটকম/১০ নভেম্বর ২০২০ খ্রী