বিশেষ প্রতিনিধিঃ

সিলেট সদর উপজেলার সর্দারগাঁও এলাকায় ৫ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (৪ অক্টোবর) ভোর ৬টায় সুনামগঞ্জের আক্তাপাড়া থেকে জসিমকে আর সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর কালাপাহাড় এলাকা থেকে এখলাছকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, এসএমপির জালালাবাদ থানার রায়েরগাঁও এলাকার নাসির উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন এবং এসএমপির জালালাবাদ থানার সর্দারগাঁও এলাকার তজম্মুল আলীর ছেলে এখলাছ আলী।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) জ্যোতির্ময় সরকার পিপিএম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টায় জড়িত থাকা স্থানীয় চারজনকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিদর্শক মো. শাহ আলম।

এর আগে গতকাল শনিবার কেন্দ্রীয় শহিদমিনারে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ জালালাবাদ থানা শাখা ও পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট সদর উপজেলা শাখার উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা আগামী ৭ দিনের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার না করলে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় ঘেরাও করার হুঁশিয়ারি দেন। মানববন্ধনে দেয়া এমন হুশিয়ারির পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এর পরই দ্রুত সময়ের মধ্যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

জানা যায়, ধর্ষণের শিকার ওই স্কুলছাত্রীর পিতা গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে জালালাবাদ থানায় দুইজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। স্কুল ছাত্রী রায়েরগাঁও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত।

স্কুলছাত্রীর পিতা বলেন, গত রোববার রাত ১০টার দিকে আমার মেয়ে বাথরুমে যায়। ওই সময়ে বিদ্যুৎ ছিল। একটু পরেই বিদ্যুৎ চলে যায়। এই ফাঁকে সর্দারগাঁও এলাকার এখলাছ আমার মেয়ের মুখে চেপে ধরে ও রায়েরগাঁও’র জসিম আমার মেয়েকে তুলে নিয়ে যায় বাছাই নদীর চরে। সেখানে তারা দু’জন মিলে তাকে ধর্ষণ করে। এরপর তারা আমার মেয়েকে নৌকায় করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য রাতে নদীর পাড়ে যায়। সেখানে মেয়েটির মামা বিষয়টি দেখতে পেয়ে এগিয়ে আসেন। এসে দেখেন তাদের কাছে তার স্কুলপড়ুয়া ভাগ্নি। এরপর তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে স্কুলছাত্রীকে ফেলে ঘটনার হোতারা দ্রুত পালিয়ে যায়।

শান্তিবার্তা ডটকম/৪ সেপ্টেম্বর ২০২০