এ কেমন অনুভবের চাওয়া তোমার,
যে উপলব্ধিতে ক্ষণেক্ষণে শিহরিত হয় মন আমার
আমি সারাদিন শব্দের পর শব্দ দিয়ে বুনি কবিতার খাতা
তুমি এলে হারিয়ে যায় সব কথারা,
দু’চোখে তােমার আকুল প্রতীক্ষা শান্তিহীন, ক্লান্তিহীন, বিরাম বিহীন
তুমি কাছে এলে আমি আর কিছু লিখতে পারিনা ,
আলাে আঁধারের পর্যটন শেষে পৃথিবীতে ফিরে আসে পরিযায়ী তারা,
রক্তের মধ্যে জলতরঙ্গ বাজায় নৈঃশব্দ্যের বর্ণমালা,
রাতের আঁধারে নগ্নিকা দেহ থেকে যেন ঝড়ে পড়ছে আবেদনের সহস্ৰ জোনাকী,
তুমি অপলক তাকিয়ে আছো আমার কেবলই মনে হচ্ছে,
এখনই আকাশের বুকে একটুকরাে মেঘের আবির্ভাব হবে চাঁদমুখ ঢেকে যাবে লজ্জায়,
আধো ছায়া আধো অন্ধকারে তুমি আর আমি ছিলেম নৈঃশব্দের মধ্যে একা,
তুমি যেন স্বপ্নপুরুষ, মগ্ন মৈনাক, নীল নির্জনে একক পাহাড়,
তােমার উন্নত শির, প্রশস্ত বুক, উদ্ধত কাঁধ
তােমার পৌরুষ অহঙ্কারে পরিপূর্ণ,
বাসনার প্রদীপ জ্বেলে আমি এক শরীর আগুন নিয়ে
তোমার সব কিছুকে আমি ভীষণভাবে নিজের করে পেতে চাই,
ঘন অন্ধকার রাত এগিয়ে আসছে,
আমি সেজে উঠি কামবিলাসিনীর ছদ্মবেশে,
আমার সর্বাঙ্গে যেন বাসনার নির্যাস,
তোমার চোখের তারায় আগুনের উন্মাদনা
তুমি এসে আমার কানে কানে বলে যাও মহামিলনের এক মন্ত্রকথা,
আমি নির্ধিধায় আমার সবকিছু উজাড় করে দেব তোমার চরণে,
হে সুপ্রিয়,
তুমি কোন রূপটিকে ভালােবাসো সকালের শিশির ভেজা শরীর ?
নাকি মধ্য রাতের কামনাবিলাসী প্রেম ?
হিম অরণ্যের অন্ধকারে প্রতিদিন নিঃসঙ্গ নির্জনতায়
আমরা মিশে যাই নিবিড় আলিঙ্গনে…………..

— ফারজানা শারমিন
২৪ – ০৯ – ২০২০ইং

শান্তিবার্তা ডটকম/২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০