শিরোনাম
  পরিকল্পনামন্ত্রীর প্রচেষ্টায় জগন্নাথপুর-সিলেট সড়কের কাজ শুরু       নেত্রকোনায় ট্রলারডুবি, ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার       অপরাধীকে যারা রক্ষা করে তারা সমান অপরাধী- প্রধানমন্ত্রী       নারায়ণগঞ্জে দগ্ধ ৩৭ জনের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে দিতে তিতাসকে নির্দেশ       অনুমতি ছাড়া মামলা করা যাবেনা সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে       ফাইবার গ্লাসের নৌকা ও স্পিডবোট নিয়ে এলো আরএফএল       ওজনে কারচুপি- ভোজনবাড়ি রেস্তোরাঁসহ ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা       সিলেটের দুই ল্যাবে আরও ৫৯ জনের করোনা শনাক্ত       সঙ্কট মোকাবেলায় একে অপরকে ছেড়ে যাওয়া উচিত নয়- প্রধানমন্ত্রী       একাদশে ভর্তি ফি বেশি নিলে এমপিও বাতিল    


জগন্নাথপুর বিশেষ প্রতিনিধিঃ

দায়িত্বহীনতা আর গাফিলতির কারণে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলাবাসীর যোগাযোগের প্রধান অবলম্বন জগন্নাথপুর-সিলেট (জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ-রশিদপুর) ও সুনামগঞ্জ টু জগন্নাথপুর সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অনুপযোগী হয়ে উঠেছিলো। এ নিয়ে সিলেট ভয়েসসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান এর প্রচেষ্টায় সড়কটির শুরু হয়েছে।

এর আগে বারবার সড়কটি সংস্কারের দাবি উঠলেও দাবীটি উপেক্ষিত ছিল দীর্ঘদিন থেকে। তবে এবার বিষয়টি পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান এর নজরে এসেছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি ও এলাকাবাসী জানায়, সিলেট বিভাগীয় শহরসহ ঢাকার রাজধানীর সঙ্গে জগন্নাথপুর ও সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ-রশিদপুর সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে এই সড়কের বেহালদশা বিরাজ করছে।

২০১৭ সালে জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ সড়কের জগন্নাথপুরের ১৩ কিলোমিটার অংশ সংস্কারের জন্য প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এ কাজটি পান সুনামগঞ্জের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নূরা এন্টারপ্রাইজ। ওই প্রতিষ্ঠান কিছু কাজ করে বন্ধ করে দেয়। তাছাড়া কাজের তিন মাসের মাথায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেয়।

তখন ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্থানীয় এলজিইডির তত্ত্বাবধানে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে নামমাত্র কাজ করে কাজের নামে সরকারি অর্থ লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর ২০১৮ সালে ১০ লাখ টাকার জরুরী সংস্কার করা হয়। এর কিছুদিন পর ২০১৯ সালে সড়কের বেহাল দশা দেখা দিলে মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে।

পরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সড়কে অস্থায়ী মেরামতের জন্য ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। কাজ পায় সুনামগঞ্জের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রেনু এন্টারপ্রাইজ। যৎসামান্য মেরামত করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও। এরপর গত বছরের শেষের দিকে জগন্নাথপুর অংশের ১৩ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ২৫ কোটি টাকার টেন্ডার আহবান করা হলে কাজটি পায় মাদারীপুরেরর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হামীম সালেহ (জেভি)।

চুক্তি অনুয়ায়ী গত ফেব্রুয়ারি মাসের ১০ তারিখ থেকে সড়কে কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও মার্চের প্রথম দিকে কাজ শুরু হয়। চুক্তি মোতাবেক আগামী বছরের ৩১ মার্চ কাজ শেষ করার কথা।

এদিকে দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে বন্ধ হয়ে যায় কাজ। সম্প্রতিকালে ঝড়-বৃষ্টির সময় সামান্য কাজ করে ফের বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অব্যাহত বৃষ্টি আর তিন দফা বন্যায় প্রায় অচল হয়ে পড়ে সড়কটি।

সম্প্রতি এ সড়কের জগন্নাথপুর পৌর এলাকার বটেরতল নামক স্থানে একটি গর্তে পড়ে অটোরিকশায় থাকা সন্তানসম্ভবা এক নারী সড়কেই সন্তান প্রসব করেছেন। এ ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয় মানুষের মধ্যে। সংস্কারের অভাবে দিন দিন সড়কে নাজুক অবস্থায় সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে সিলেট ভয়েস ও বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন ‘বাংলা টিভি।

জগন্নাথপুর উপজেলা পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি নিজামুল করিম জানান, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সংস্কারের অভাবে যানচলাচলে অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। সংস্কারের দাবীতে আমরা একাধিকবার পরিবহন ধর্মঘট কর্মসূচি গ্রহণ করি। সংস্কারের আশ্বাসে কর্মসূচি বাববার প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে সড়কে বেহাল দশা বিরাজ করছে। তাছাড়া গত দুই তিন মাস ধরে সড়কের কাজ বন্ধ রয়েছে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার সাকলাইন হোসেন জানান, করোনা ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে সংস্কার কাজ ব্যাহত হয়েছে। তবে আজ থেকে কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন- সড়কের কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্য কাজ শেষ হবে।

জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) গোলাম সারোয়ার বলেন, এলজিইডি’র তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংক আইডিএ এর অর্থায়নে জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ সড়কের ১৩ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ২৫ কোটি ৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সড়কের কাজ শুরু হয়েছে।

শান্তিবার্তা ডটকম/৯ সেপ্টেম্বর ২০২০