শিরোনাম


২৪ ঘণ্টা কাজ নয়, রাজস্ব খাতে স্থানান্তর চাই’ এই দাবি জানিয়ে রাজধানীর মিরপুরে সাড়ে ৫ ঘন্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েক হাজার দফতরি কাম প্রহরী।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে সকাল ১০টা থেকে সমাবেশ শুরু করেন তারা। সমাবেশ শুরুর পরপরই তারা মিরপুর ১ নম্বর থেকে ১০ নম্বর সড়কে অধিদফতরের সামনের দুই পাশের রাস্তা অবরোধ করেন তারা।

শেষ পর্যন্ত সমস্যা সমাধানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালকের মহাপরিচালকের আশ্বাসে বিকাল সাড়ে ৩টায় সমাবেশ শেষ করেন তারা। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মচারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে সবগুলো সংগঠন একসঙ্গে কর্মসূচি পালন করে।

দাবির বিষয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সেলিম পারভেজ এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মচারী ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শামীম রেজা জানান, দফতরি কাম প্রহরী পদটি রাজস্ব খাতে স্থানান্তর, কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, বেতন বৈষম্য নিরসন, বোনাস প্রদান এবং কাজের ধরন নির্ধারণসহ হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়ন চেয়ে আন্দোলন করছি।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম পারভেজ বলেন, ‘একটানা ২৪ ঘণ্টা কোনও মানুষ কাজ করতে পারে না, সব কর্মচারীর মত আমাদের ডিউটির সময় সুনির্দিষ্ট হতে হবে। আমাদের পদটি রাজস্ব খাতে নিতে হবে। হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী আমাদের দাবি মানতে হবে।

হাইকোর্টের নির্দেশনার বিষয়ে সেলিম রেজা জানান, হাইকোর্ট ৬ মাসের মধ্যে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন। আর কোনও কর্মচারীর ২০ ঘণ্টা ডিউটি হতে পারে না বিবেচনায় কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করতে নির্দেশ দেন সরকারকে। কিন্তু আজ অবধি তা মানা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরি কাম প্রহরীদের পক্ষে হাইকোর্টে রিট পিটিশন করা হয়। ২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি রায়ে কর্মঘণ্টা নির্ধারণ ও রাজস্বখাতে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়ে রায় দেন হাইকোর্ট। দেড় বছরেও রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় তরা সোমবার (২৪ আগস্ট) অধিদফতরের সামনে সমাবেশে জড়ো হন।

করোনার মধ্যেই প্রথম সমাবেশ আহ্বান করা হয় গত ২০ জুলাই। সমাবেশের ডাক দিলে গত ১৬ জুলাই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর মিরপুর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দেয় সমাবেশ বন্ধের জন্য। এরপর আবার ২৪ আগস্টে সমাবেশ আহ্বান করেন দফতরি কাম প্রহরীরা। এই সমাবেশ বন্ধ করতেও গত ২০ আগস্ট আবারও মিরপুর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দেয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। তবে এই চিঠির পরও সমাবেশ করার প্রস্তুতি নেন তারা।

কর্মসূচি অনুযায়ী সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টায় হাজারও দফতরি কাম নৈশ প্রহরী জড়ো হন অধিদফতরের সামনে। বন্ধ হয়ে যায় দুই পাশের রাস্তা। পুলিশ রাস্তা অবরোধ না করার অনুরোধ জানালেও হাজার হাজার দফতরি কাম নৈশ প্রহরীর উপস্থিতিতে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশের পক্ষ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করে দফতরি কাম নৈশ প্রহরীদের বুঝিয়ে সমাবেশ শেষ করার অনুরোধ জানানো হয়।

অবশেষে বিকাল সোয়া ৩টার পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ্ এবং অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দফতরি কাম প্রহরীদের আগামী ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে সমাবেশ শেষ করা হয়।

প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সেলিম পারভেজ বলেন, ‘আগামী ৭ সেপ্টেম্বর দাবির বিষয়ে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে সমাবেশ শেষ করি। তবে দাবি মেনে নেওয়া না হলে আবার আন্দোলন-কর্মসূচি দেওয়া হবে। ’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দফতরি কাম প্রহরী নিয়োগের জন্য নীতিমালা তৈরি করে সরকার। এরপর সারাদেশে ৩৬ হাজার ৯৮৮টি পদ সৃষ্টির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয় দফতরি কাম নৈশ প্রহরী। স্থানীয় কমিটির মাধ্যমে বেসরকারিভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে দফতরি কাম প্রহরীদের। স্থানীয়ভাবে তাদের মাসিক বেতন দেওয়া হতো ১৪ হাজার ৪৫০ টাকা। পরে তাদের আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বেসরকারি কর্মচারী হিসেবে রাজস্ব খাত থেকে ১৬ হাজার ১৩০ টাকা বেতন দেওয়া হলেও বোনাস দেওয়া হয় না।

শান্তিবার্তা ডটকম/২৪ আগস্ট ২০২০/ বাংলা ট্রিবিউন