শিরোনাম


Spread the love

ডেস্ক নিউজঃ

দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। মহাসড়কগুলো যেন পরিণত হয়েছে পরিবহন চালকদের রেসের ক্ষেত্রে। তার সঙ্গে সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকা, ছোট ধরনের যানবাহনের অবাধ চলাচল দুর্ঘটনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

দেশে সড়ক দুর্ঘটনার ৯০ শতাংশই চালকের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে সংঘটিত হচ্ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না হলে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকারের নানা পদক্ষেপ কেবল কাগজে-কলমে মুখ থুবড়ে থাকবে বলেই মনে করছেন তারা।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাক্সিডেন্ট রিচার্স ইনস্টিটিউট-এআরআইয়ের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. মোয়াজ্জেম হোসাইনের মতে, যেসব মহাসড়কে যানবাহনের গতি থাকার কথা সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার, সেখানে সরকার গতি দেখাচ্ছে ৮০ কিলোমিটারের বেশি। এতে করে চালকদের মধ্যে বেপরোয়া মনোভাব চলে আসছে। তারা সড়কে এক প্রকার রেসের মতো প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হচ্ছে।

মোয়াজ্জেম হোসাইন বলেন, ‘প্রধান সড়কে অদক্ষ চালক এবং ওভারটেকিংয়ের কারণে প্রতিদিনই সড়কে মৃত্যু হচ্ছে। দুর্ঘটনার ৯০ শতাংশেরই প্রধান কারণ চালকের বেপরোয়া মনোভাব ও গতি। রেষারেষি আর আগে যাওয়ার মনোভাবের কারণে দুর্ঘটনাগুলোর বেশিরভাগই ঘটছে।’

এআরআইয়ের সাম্প্রতিক এক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সড়কে অবৈধভাবে অটোরিকশা, সিএনজি, থ্রি-হুইলার, লেগুনাসহ অনুমোদনহীন ছোট যানবাহনগুলো অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে যত্রতত্র মহাসড়কে চলাচল করছে। অনেকসময় দেখা যায় দ্রুতগতিতে থাকা বড় যানবাহনের সঙ্গে সেগুলোর মুখোমুখি সংঘর্ষ হচ্ছে।

ড. মোয়াজ্জেম বলেন, ‘বাংলাদেশে অধিকাংশ দুর্ঘটনা মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণে হয়ে থাকে। দেশের মহাসড়কগুলোর যে অবস্থা তাতে ৬০ কিলোমিটারের ওপরে গতি হওয়ার কথা না। যদিও কিছু নতুন হাইওয়েতে সরকার ৮০ কিলোমিাটারের বেশি গতি দেখাচ্ছে। এটা কিন্তু ব্যক্তিগত গাড়ি বা যাত্রী পরিবহনের জন্য। কিন্তু পণ্যবাহী গাড়ির জন্য সাধারণত আরও ১০ থেকে ২০ কিলোমিটার কম গতি দেওয়া হয়। তার মানে ভারী যানবাহন বা পণ্যবাহী ট্রাকগুলো ৬০ কিলোমিটারের বেশি হওয়ার কথা না।’

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘বিশেষ করে বাস এবং খালি ট্রাকগুলো সাধারণত ১০০ কিলোমিটারের গতিতে চলাচল করে। তারা শুধু এই গতিতে গাড়ি চালিয়ে ক্ষান্ত হয় না। তারা তাদের সেই গতি ধরে রাখার জন্য ওভারটেকিংও করে। এখন এই রকম অতিরিক্ত গতিতে যখন ওভারটেক করা হয় তখন একশটি ওভারটেকের মধ্যে একটিতে ভুল হচ্ছে আর মুখোমুখি সংঘর্ষ হচ্ছে।’

এই বিশেষজ্ঞের মতে, মূলত এই কারণে চলাচল করা গাড়ির পাশাপাশি রাস্তার পাশে থাকা সাধারণ মানুষও দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। সরকার বারবার বলছে মহাসড়কে কোনো পথচারী চলতে দেওয়া হবে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো তারা রাস্তায় আছেন।

ড. মোয়াজ্জেম বলেন, ‘এই সবকিছু যখন নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না, তখন আমরা বলেছি, সড়কের গতি কিছুটা কমিয়ে দিতে। গতি কমিয়ে দেওয়া হলে এসব গাড়ির গতি কিন্তু কোনোভাবেই ৫০ কিলোমিটারের ওপরে উঠতে পারে না। সুতরাং এখানে বড় একটি বিষয় হলো গতিসীমা। সরকার গতিসীমা এমনিতেই বেশি দেখাচ্ছে, সেই বেশি থেকেও বাস্তবে ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার বেশি গতিতে চালাচ্ছেন চালকরা।’

মহাসড়কে স্বল্পগতির গাড়ি অর্থাৎ যাত্রীবাহী ছোট গাড়িগুলো চলাচল করার কারণে যেসব দুর্ঘটনা ঘটছে তার জন্য হাইওয়ে পুলিশের ঢিলেঢালা মনোভাব দায়ী কি-না প্রশ্নে বুয়েটের এই অধ্যাপক বলেন, ‘এমনিতে সরকারি কাগজে এই সকল যানবাহন মহাসড়কে নিষিদ্ধ। কিন্তু বাস্তবে এগুলো নিষিদ্ধ বা চলাচল বন্ধ করা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘এটার জন্য সমাধান কী বললে আমি বলবো সড়কের গতি কমিয়ে আনা। শুধু কমিয়ে আনা না, এই নিয়ম যে, বাস-ট্রাকগুলোকে অবশ্যই মানতে বাধ্য করা। এগুলোর বিষয়ে বুয়েটের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রস্তাবনা এবং বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলো বাস্তবায়ন হয়নি। এছাড়া একইসময়ে সরকারের নিয়মগুলো যাদের পালন করার কথা তারাও সেগুলো পালন করছে না। ফলে দুর্ঘটনাও কমছে না।’

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ভূমিকার বিষয়ে ড. মোয়াজ্জেম হোসাইন বলেন, ‘সরকার নিয়ম করেছে থ্রি-হুইলার জাতীয় গাড়ি মহাসড়কে উঠবে না। কিন্তু বাস্তবে তারা উঠছে। সরকার যে আইন করলো সেটি বাস্তবায়ন হয়নি কেন? অর্থাৎ এখানে দায়িত্বে অবহেলার কারণে হাইওয়ে পুলিশের কাছে সরকারের জবাবদিহিতা চাওয়া উচিত। এখানে জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে।

শান্তিবার্তা ডটকম/১৯ আগস্ট ২০২০