শিরোনাম
  বিধি-নিষেধ শিথিলতার মেয়াদ আর বাড়ছে না,চলবে ৫ আগস্ট পর্যন্ত       জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সাকিবের ব্যাটে বাংলাদেশের সিরিজ জয়       মাগুরায় সরকারি ভাতাভোগীর টাকা অন্যের মোবাইলে       অ্যাডভোকেট শফিকুল আলমের মৃত্যুতে পরিকল্পনামন্ত্রীর শোক       পল্লীবন্ধু হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল       পাগলা বাজারে মনসুর ফ্যাশনের উদ্বোধন       নরসিংদীতে কাভার্ডভ্যান-লেগুনা সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৬       মেসেঞ্জারে ঢাবি ছাত্রীকে হেনস্তা, তদন্ত কমিটি গঠন       সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করোনা আক্রান্ত       ইভ্যালি’র কার্যালয়ে তালা, হটলাইনেও মিলছে না সাড়া!    


Spread the love
        

গতকাল ছিলো বাবা দিবস। ফেসবুক ছিলো বাবাময়। অনেকেই বাবার সাথে ফেসবুক ছবি শেয়ার করছেন। আবেগঘন স্টেটাস দিয়েছেন। বাবাকে নিয়ে ছেলেবেলার স্মৃতিচারণ করেছেন। আমি নিজেও এর ব্যতিক্রম নই। গতকাল ফেসবুকে, নিউজ পোর্টালে বাবাকে নিয়ে প্রচুর লেখা পড়েছি। গতকাল বাবা দিবসটিকে সামনে রেখেই অনেকেই তাদের বাবাকে নিয়ে লিখেছেন বলেই আমরা অনেক কিছুই তাদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি। এটা মন্দ নয়। যদিও কেহ কেহ এটাকে বাঁকা চোখে দেখেছেন। বছরের ৩৬৫ দিনই বাবাকে প্রাণভরে ভালোবাসব। আর একদিন বাবাকে নিয়ে অনুভুতি প্রকাশ করলে মন্দ কি? এতে দোষের কিছু দেখছি না। তবে লোক দেখানো কোন কিছুই ভালো নয়। আবেগ ও বাস্তবতায় মিল থাকলে সেটাই গ্রহনযোগ্য হয়। গতকাল বাবাকে নিয়ে তিন জন আলোকিত নারীর কথা পড়েছি। একজন যুগ্ম সচিব। বর্তমানে একটি মন্ত্রণালয়ে কর্মরত। তিনি লিখেছেন তার জীবনে সেখানে পৌছানোর প্রেরণা ও মূল শক্তি তাঁর বাবা। আরো লিখেছেন বর্তমানে আমাদের কথা ও কাজে আদর্শের মিল থাকে না বলেই সন্তানেরা আদর্শিক, মানবিক সন্তান হিসেবে গড়ে উঠছেনা। আরেক নারী কর্মকর্তা লিখেছেন তিনি দুপুরে ভাত খেতে পারেন না। তাঁর স্টাফেরা অনুরোধ করেন দুপুরে খাওয়া জন্যে। তারা বলেছেন না খেলে তিনি অসুস্থ হতে পারেন। তিনি লিখেছেন তাঁর সৎ সরকারি চাকুরীজীবি বাবা মেসে থেকে চাকুরী করতেন। দুপুরে না খেয়ে টাকাটা জমা করে ছয় ভাই বোনের অভাব অনটনের সংসারে মায়ের হাতে পাঠিয়ে দিতেন। তিনি যে পোস্টে চাকুরী করতেন সেখানে অনেক অবৈধ আয়ের সুযোগ ছিল। পরপারে বাবার সেই ত্যাগের কথাটা তাঁর মনে হলেই তিনি দুপুরে ভাত খেতে পারেন না। আরেক বাঙ্গালী নারী বর্তমানে দেশের বাহিরে একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তিনি লিখেছেন তিনিও তাঁর বাবা যতদিন পৃথিবীতে বেঁচে ছিলেন প্রতিনিয়তই তাঁর বাবার কাছ থেকে শিখেছেন। দেশের প্রথম সারির একজন সাংবাদিক লিখেছেন তিনি দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেও কাউকেই তিনি অনুসরণ বা অনুকরণ করেন না শুধু অল্প শিক্ষিত বাবাকে ছাড়া। বাবা দিবসে বাবাকে নিয়ে এমন অনেক লেখাই গতকাল পড়ে মুগ্ধ হয়েছি। এই ইতিবাচক লেখা গুলোর মাধ্যমে বর্তমান তরুণ প্রজন্মের মধ্যে একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আমি মনে করি। ফেসবুকে দু একটা স্টেটাস ব্যতিক্রমও দেখেছি। কেহ বলেছেন পৃথিবীতে অনেক খারাপ বাবাও রয়েছে। উদারহণ দিয়েছেন। কেহ কেহ লিখেছেন বাবা দিবসে তারা বিশ্বাসী নন। এটা নাকি লোক দেখানো। যারা ফেসবুকে আবেগ দেখায় তারা নাকি বাস্তবে বিপরীত। যে কোন বিষয়ে পক্ষে বিপক্ষে অনেক মত থাকতে পারে । তবে বর্তমান প্রযুক্তির যুগে প্রকাশের মাধ্যম সহজ হওয়ায় বিভিন্ন দিবসে অনেকেই তাদের অনুভুতি প্রকাশ করছেন এটাকে খাটো চোখে দেখা ঠিক নয়। তবে গঠন মূলক সমালোচনাকে সব সময় স্বাগত জানানো উচিত। আসুন আমরা যা প্রকাশ করি সেটাকে বাস্তবে রুপ দিয়ে নিজের সত্তাটাকে পবিত্র রাখি।

প্রভাষক, সরকারি দিগেন্দ্র বর্মন কলেজে, বিশ্বম্ভরপুর, সুনামগঞ্জ।

শান্তিবার্তা ডট কম/২২ জুন ২০২০