শিরোনাম
  কালোটাকা সাদা করার প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি টিআইবির       সিলেটে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা       দেশে করোনায় ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু ও আক্রান্তের নতুন রেকর্ড       সিলেটে আরও ৪৭ জনের করোনা শনাক্ত       সুনামগঞ্জ আরও ২৩ জনের করোনা শনাক্ত       এবারের বাজেটে শর্ত সাপেক্ষে কালো টাকা, অপ্রদর্শিত অর্থে কেনা ফ্ল্যাট ও জমি বৈধ করার সুযোগ থাকছে       ৬% ঘাটতি ধরে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন       তাহিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনার নমুনা সংগ্রহের বুথ উদ্বোধন       শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবসে সুনামগঞ্জ জেলা যুবলীগের আলোচনা ও দোয়া মাহফিল       সুনামগঞ্জ মাস্ক ব্যবহার না করায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা    


ডেস্ক নিউজঃ

২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা সাদা করা ও অর্থ পাচারকে বৈধতা দেওয়ার পদক্ষেপে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। কালো টাকা সাদা করার প্রস্তাবকে অনৈতিক, বৈষম্যমূলক ও সংবিধান পরিপন্থী উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও সুশাসন নিশ্চিতে জোরালো কোনও পদক্ষেপ বাজেটে না থাকা এবং করোনাকালে এ খাতে বরাদ্দ অপর্যাপ্ত হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে টিআইবি।

শুক্রবার (১২ জুন) সংস্থাটির পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন) শেখ মনজুর-ই-আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি বলছে, করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের নামে সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকার ও দেশের সব প্রচলিত আইনকে উপেক্ষা করে বাজেটে আয়কর অধ্যাদেশে নতুন দুটি ধারা সংযোজনের মাধ্যমে জমি, ভবন, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট কেনা, নগদ অর্থ, ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার ও বন্ডে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালোটাকা সাদা করার অবারিত সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। একইসঙ্গে অর্থের বা সম্পদের উৎস নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন বা অন্যকোনও কর্তৃপক্ষের প্রশ্ন তোলার বিধানটিও রহিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাজেটে এই প্রস্তাবের ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এটি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত দুর্নীতির প্রতি শূন্য সহনশীলতার সম্পূর্ণ বিপরীত ও অমর্যাদাকর পদক্ষেপ, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বছরের পর বছর এ ধরনের সুবিধা দিয়ে দেশের অর্থনীতির কোনও উপকার হয়নি, উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আদায় হয়নি, কোনও বিনিয়োগতো নয়-ই। বরং অনৈতিকতা প্রশ্রয় পেয়েছে আর সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। সংবিধানের ২০ (২) অনুচ্ছেদের পরিপন্থী এই ব্যবস্থা সৎপথে উপার্জনকারী নাগরিকের প্রতি বৈষম্যমূলক। এর মাধ্যমে সরকার প্রকারান্তরে দুর্নীতি ও অবৈধতাকে লাইসেন্স দিয়ে দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হতে জনগণকে উৎসাহ দিচ্ছে।’

অর্থপাচার ঠেকানোর নামে ৫০ শতাংশ জরিমানার বিধান আয়কর অধ্যাদেশে যুক্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে বাজেটে। এমন প্রস্তাবকে অপরিণামদর্শী আখ্যা দিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘অর্থপাচারের মতো অপরাধকে ৫০ ভাগ কর প্রদানের মাধ্যমে বৈধতা দান গুরু পাপে লঘু দণ্ডের অভিনব উদহারণ হতে যাচ্ছে, যেন এ ধরনের ঘোরতর অপরাধের জবাবদিহি কর আদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এক্ষেত্রে আইনের শাসন আর আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারে কী ধরনের প্রভাব পড়বে তা বাজেট প্রণেতাগণ মোটেই ভেবে দেখেননি। এর ফলে অর্থপাচার নিয়ন্ত্রণের স্থলে বরং এর মহোৎসবের সুযোগ তৈরি হবে। যেভাবেই এসবের ব্যাখ্যা দেওয়া হোক না কেন, এই প্রস্তাবসমূহ দুর্নীতি-সহায়ক, স্ববিরোধী, বৈষম্যমূলক ও সংবিধান-পরিপন্থী। বলা যেতে পারে সরকার একটি দুর্নীতি সহায়ক বাজেট ঘোষণা করেছে।’

কোভিড-১৯ মোকাবিলায় জরুরি তহবিল হিসেবে ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দের বাইরে স্বাস্থ্য খাতের বাজেট বরাদ্দ একেবারেই গতানুগতিক আখ্যা দিয়ে ড. জামান বলেন, ‘এই থোক বরাদ্দ যেনো ব্যাপকতর দুর্নীতির সুযোগে রূপান্তরিত হতে না পারে তার পথনকশা থাকতে হবে। অন্যদিকে বাজেটের কথামালায় স্বাস্থ্য খাতের কথা বারবার উচ্চারিত হলেও এডহকভিত্তিক কয়েকটি উদ্যোগ ছাড়া সেবার মান বাড়ানো এবং খাতটিতে শিকড় গেড়ে বসা অবিশ্বাস্য রকমের দুর্নীতির মূলোৎপাটনে কোনও পরিকল্পনাই নেওয়া হয়নি, যেটি হতাশাজনক ও স্বাস্থ্যসেবার প্রতি উদাসীনতার ও সময়ের অনুপযোগী প্রাধান্যের প্রতিফলন। যার ফলে, শতাংশের হিসেবে (মোট বাজেটের ৫ দশমিক ১ শতাংশ) বরাদ্দ বিদায়ী বছরের (৫ দশমিক ৮ শতাংশ) চেয়েও বিব্রতকরভাবে কমে গেছে।’

একইভাবে প্রত্যাশা ছিল করোনা সংকটের কারণে কর্মহীন হয়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাওয়া মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতা বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান তৈরিতে ব্যাপকভিত্তিক পরিকল্পনা। কিন্তু বাজেট বিভিন্ন শিল্প খাতের জন্য কর ও শুল্ক ছাড়ের ওপর প্রাধান্য দিতেই বেশি মনোযোগী হয়েছে।

ঘোষিত বাজেটে বিদ্যুৎ খাতের উদ্বৃত্ত ক্ষমতা বিবেচনায় ফার্নেস তেলভিত্তিক ব্যয়বহুল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিরুৎসাহিত করার অংশ হিসেবে তেল আমদানিতে থাকা শুল্ক সুবিধা প্রত্যাহারের বিষয়টি সাধুবাদ যোগ্য হলেও ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে অব্যাহত ভর্তুকি বন্ধের কোনও ঘোষণা দেওয়া হয়নি। একইসঙ্গে ক্রমাগত প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্যোগে ক্ষয়-ক্ষতি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড বিসিসিটিএফ- এ বর্ধিত মাত্রায় বরাদ্দের প্রয়োজন হলেও মাত্র ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। একইভাবে ঘূর্ণিঝড় আমফান, আমফান পরবর্তী জলোচ্ছ্বাস ও বন্যায় ক্ষয়-ক্ষতি মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে কোনও সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ করা হয়নি বরং মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ কিছুটা কমে গেছে। টিআইবি আশা করে চূড়ান্তভাবে বাজেট পাশের পূর্বে এসব বিষয়ে যথাযথ মনোযোগী হবে সরকার।

শান্তিবার্তা ডট কম/১২ জুন ২০২০




কালোটাকা সাদা করার প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি টিআইবির

সিলেটে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা

দেশে করোনায় ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু ও আক্রান্তের নতুন রেকর্ড

সিলেটে আরও ৪৭ জনের করোনা শনাক্ত

সুনামগঞ্জ আরও ২৩ জনের করোনা শনাক্ত

এবারের বাজেটে শর্ত সাপেক্ষে কালো টাকা, অপ্রদর্শিত অর্থে কেনা ফ্ল্যাট ও জমি বৈধ করার সুযোগ থাকছে

৬% ঘাটতি ধরে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন

তাহিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনার নমুনা সংগ্রহের বুথ উদ্বোধন

শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবসে সুনামগঞ্জ জেলা যুবলীগের আলোচনা ও দোয়া মাহফিল

সুনামগঞ্জ মাস্ক ব্যবহার না করায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা