শিরোনাম


Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার

হাওর রক্ষা বাঁধের চুড়ান্ত বিল পরিশোধ না করার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছে হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটি। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরীর হাতে স্মারক লিপি প্রদান করা হয়। এসময় হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায়,  যুগ্ম সম্পাদক সালেহিন চৌধুরী শুভ,  সাংগঠনিক সম্পাদক একে কুদরত পাশা উপস্থিত ছিলেন।

কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু ও  সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে  উল্লেখ করা হয়,  সুনামগঞ্জ জেলায় হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ শুরু থেকেই বাঁধ রক্ষার কাজে নিয়োজিতরা বিভিন্ন দুর্নীতি অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সঠিক সময়ে কাজ শুরু না হওয়ায় সঠিক সময়ে কাজ শেষ হয়নি। কাজ শুরু থেকেই আমরা অপ্রয়োজনীয় বাঁধ বাতিল, কাজের গুণগত মান বজায় রাখা এবং সঠিক সময়ে কাজ শেষ করার দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবিকে আমলে না নিয়ে দায়সার ভাবে হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ করেছে।

এবারের বোরো মৌসুমে জেলার ছোট বড় মিলিয়ে ৫২ টি হাওরে ৬৩৬ কি:মি: হাওররক্ষা বাঁধ নির্মান ও পূণঃমেরামত করা হয়। প্রকল্প গ্রহণ করা হয় ৭৪৯ টি, এতে প্রাথমিক বরাদ্দ হয় ৬৯ কোটি টাকা। এরপর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পাউবোর উপ-সহকারী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে প্রতিটি উপজেলায় অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এই বরাদ্দ ১৩২ কোটি টাকায় দাড়ায়। আমরা সেসময় থেকেই অপ্রয়োজনীয় বাঁধ বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করে আসছি।

১৫ ডিসেম্বর বাঁধের কাজ শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ করার নিয়ম থাকলেও কোন পিআইসি সঠিক সময়ে কাজ শুরু বা শেষ করতে পারেনি। প্রশাসন দু’দফা সময় বাড়িয়ে ৩১ মার্চের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা বললেও তা মানেনি বাঁধের কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট কেউই। বেশিরভাগ বাঁধগুলোতেই দায়সারা মাটি ভরাট করে কাজ শেষ দেখিয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি)। সে সময় পর্যন্ত অধিকাংশ বাঁধেই দুর্মুজ করা হয়নি, ঘাস লাগানো সহ প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ হয়নি। আমরা সর্বশেষ শাল্লা উপজেলার বিভিন্ন বাঁধ পরিদর্শন করে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে মত বিনিময় করে বাঁধের কাজের বিষয়ে অসঙ্গতিগুলো তুলে ধরেছিলাম।

বাঁধের কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে কাজ পরবর্তী মূল্যায়ন (পোস্ট ওয়ার্ক মেজারমেন্ট) করার কথা থাকলেও  ধান কাটার জন্য বিলম্ব হচ্ছে এই অজুহাতে পাউবোর লোকেরা কাজ পরবর্তী মূল্যায়ন (পোস্ট ওয়ার্ক মেজারমেন্ট) করেনি। এখন হাওরের সকল বাঁধ পানির নিচে। এমতাবস্থায় কাজ পরবর্তী মূল্যায়ন (পোস্ট ওয়ার্ক মেজারমেন্ট) ছাড়া কিভাবে পিআইসির চুড়ান্তবিল প্রদান করা হবে সেটা আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না। আমরা দাবি করছি কাজ পরবর্তী মূল্যায়ন (পোস্ট ওয়ার্ক মেজারমেন্ট) ছাড়া কোন পিআইসির চুরান্ত বিল প্রদান না করার জন্য।

এ পর্যন্ত পিআইসিদের কে ৮২ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকার বিল প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেক অপ্রযোজনীয় বাঁধের বিলও পরিশোধ করা হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় বাঁধের বিলের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। হাওরের ধান কাটার পর আরো প্রায় মাসাধিক কাল হাওর শুকনো ছিলো, এ সময়ে কেন কাজ পরবর্তী মূল্যায়ন (পোস্ট ওয়ার্ক মেজারমেন্ট) করা হয়নি তা তদন্তের দাবি রাখে। কাজ পরবর্তী মূল্যায়ন (পোস্ট ওয়ার্ক মেজারমেন্ট) না করে চুড়ান্ত বিল পরিশোধের মাধ্যমে দুর্নীতির একটি মহোৎসব হবে বলে আমরা মনে করছি। জুন ক্লোজিং এর নামে যাতে সরকারের এ টাকার হরিলুট না হয় সে দাবি জানান তারা।

শান্তিবার্তা ডট কম/১১ জুন ২০২০