শিরোনাম
  করোনা সংকটের মধ্যেই আগামীকাল উপস্থাপিত হবে নতুন জাতীয় বাজেট       ধর্মপাশায় ব্যাংক কর্মকর্তাসহ নতুন ২ জন করোনা আক্রান্ত       দিরাইয়ে গুদামে আগুন, ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি       নতুন রেকর্ড, দেশে গত ২৪ ঘন্টায় ৩ হাজার ১৯০ জন শনাক্ত, মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়ালো       সিলেট শাবির ল্যাবে সুনামগঞ্জের আরও ২২ জনের করোনা শনাক্ত       সিলেটে ৯৪ টেস্টে ৫০ জন করোনা পজিটিভ       উপসর্গহীন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি সংক্রমণ ছড়ায় না: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা       একদিনে শনাক্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড- শনাক্ত ৩ হাজার ১৭১জন,মৃত্যু ৪৫       গোলাপগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানসহ আরও ৪ জনের করোনা শনাক্ত       করোনা শনাক্তের দিনেও ফার্মেসিতে ছিলেন তিনি, উদ্বিগ্ন গ্রামবাসী    


ডেস্ক নিউজঃ

করোনা পরিস্থিতির অবরুদ্ধ সময়কে ছাপিয়ে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হচ্ছে আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য মোট ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করবেন। এরমধ্যে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। বাজেট উপস্থাপনের জন্য সব প্রস্তুতি শেষ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি হবে আ হ ম মুস্তফা কামালের দ্বিতীয় বাজেট। গত বছর অর্থমন্ত্রী হিসেবে জীবনের প্রথম বাজেট (২০১৯-২০ অর্থবছর) জাতীয় সংসদে উপস্থাপন শুরু করে বাজেট বক্তৃতা বইয়ের কয়েক পৃষ্ঠা পাঠ করার পর আ হ ম মুস্তফা কামাল অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই বাকি বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেছিলেন। শুধু তা-ই নয়, প্রথা অনুযায়ী বাজেট পেশের পরদিন বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনও করতে পারেননি অর্থমন্ত্রী। এটিও করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটটি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের দ্বিতীয় বাজেট। এর আগে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারে দুই মেয়াদের অর্থমন্ত্রী হিসেবে আবুল মাল আবদুল মুহিত ১০টি বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন।

এদিকে, বাজেট উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ১০ জুন বুধবার থেকে জাতীয় সংসদের অষ্টম (বাজেট) অধিবেশন আহ্বান করেছেন। বিকাল ৫টায় বসছে সংসদের এই অধিবেশন।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৮২ হাজার ১৬ কোটি টাকা। নতুন বাজেটে ঘাটতির (অনুদানসহ) পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৮৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। অনুদান ছাড়া ঘাটতির পরিমাণ এক লাখ ৮৯ হাজার ৯৯৭ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৬ শতাংশ। এবারের বাজেটের ঘাটতি জিডিপির ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। যা এই সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

সূত্র জানায়, আসন্ন বাজেটে ৩ লাখ ৮২ হাজার ১৬ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের বিপরীতে নতুন বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) আগামী বছর কর রাজস্ব আহরণ করতে হবে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। করবহির্ভূত রাজস্ব আহরণ করতে হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা এবং কর ব্যতীত প্রাপ্তির পরিমাণ হচ্ছে ৩৩ হাজার ৩ কোটি টাকা। বৈদেশিক অনুদান পাওয়ার পরিমাণ ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৩ কোটি টাকা।

২০২০-২১ অর্থবছরে সরকারের পরিচালনা ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। এরমধ্যে আবর্তক ব্যয় হচ্ছে ৩ লাখ ১১ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। আবর্তক ব্যয়ের অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধে ৫৮ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধে ৫ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এর বাইরেও সম্পদ সংগ্রহ, ভূমি অধিগ্রহণ, নির্মাণ ও পূর্তকাজ, শেয়ার ও ইক্যুইটিতে বিনিয়োগসহ মূলধনী ব্যয় হবে ৩৬ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা। পাশাপাশি ঋণ ও অগ্রিম বাবদ ৪ হাজার ২১০ কোটি টাকা এবং খাদ্য হিসেবে ৫৬৭ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

২০২০-২১ অর্থবছরে সরকার অভ্যন্তরীণ খাত থেকে এক লাখ ৯ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা ঋণ নেবে। এরমধ্যে ব্যাংকিং খাত থেকে ৮৪ হাজার ৯৮০ কোটি, সঞ্চয়পত্র থেকে ২০ হাজার কোটি এবং অন্যান্য ঋণ নেবে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা। আগামী বছরে বৈদেশিক ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে ৭৬ হাজার ৪ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এর পরিমাণ ৫২ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা।

আগামী অর্থবছরের জিডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ লাখ ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট জিডিপি টাকার অঙ্কে ধরা হয়েছিল ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৮৭২ কোটি। কিন্তু সংশোধিত বাজেটে এটি কাটছাঁট করে ২৮ লাখ ৫ হাজার ৭শ’ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, নতুন অর্থবছরের বাজেটে অপ্রদর্শিত বা কালো টাকায় কেনা জমি-ফ্ল্যাট বৈধ করার সুযোগ থাকছে। এজন্য প্রতি বর্গমিটার হিসাবে নির্দিষ্ট অঙ্কের কর দিতে হবে। একই সঙ্গে শর্তসাপেক্ষে পুঁজিবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ থাকছে। এছাড়া পণ্য আমদানিতে মিথ্যা ঘোষণা রোধে বাড়তি করারোপের বিধান যুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাজেটে তৈরি পোশাক খাতের রফতানিতে উৎসে কর বাড়ানো হচ্ছে।

সূত্র জানায়, বাজেটে আয়কর খাতে শর্তসাপেক্ষে ১০ শতাংশ কর দিয়ে শেয়ার, স্টক, মিউচুয়াল ফান্ড, বন্ড, ডিবেঞ্চারে বিনিয়োগ করতে পারবেন যে কেউ। এছাড়া অপ্রদর্শিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, নগদ টাকা, ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্র রিটার্ন প্রদর্শনের মাধ্যমে বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। নগদ টাকা, ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে মোট অঙ্কের ১০ শতাংশ কর দিয়ে বৈধ করার সুযোগ রাখা হচ্ছে।

আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের নতুন বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বরাদ্দ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ বাড়ছে এক হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাতে সরকারের বরাদ্দ ছিল ৭৪ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা। এটি মোট বাজেটের ১৪ দশমিক ২১ শতাংশ এবং মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ। আগামী অর্থবছর এ খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে করা হচ্ছে ৭৬ হাজার কোটি টাকা। করোনার কারণে আগামী বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আর্থিক সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ বাড়িয়ে ৯৭ লাখে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বিনিয়োগ বাড়ানো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ রয়েছে বাজেটে। গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কৃষি খাতকে। ফলে আগামীতে কৃষি খাতে ভর্তুকির পরিমাণ বাড়বে সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা। আর অন্যান্য খাতে ভর্তুকি মিলে ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা। আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরে নতুন ৫ লাখ আয়কর দাতাকে করজালে যুক্ত করা হবে। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে নতুন আয়করদাতার সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯ লাখ ২৩ হাজার। করোনাভাইরাসের কারণে আসন্ন বাজেটে এ সংখ্যা কমানো হচ্ছে।

নতুন অর্থবছরের এডিপিতে সর্বাধিক গুরুত্ব পাওয়া ১০টি খাত হচ্ছে: ১. পরিবহন; ২. অবকাঠামো, পানি ও গণপূর্ত; ৩. বিদ্যুৎ; ৪. শিক্ষা ও ধর্ম; ৫. বিজ্ঞান, তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি; ৬. পল্লি উন্নয়ন ও পল্লি প্রতিষ্ঠান; ৭. স্বাস্থ্য, পুষ্টি, জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণ; ৮, কৃষি; ৯. পানিসম্পদ ও ১০. জনপ্রশাসন। এই ১০ খাতে বরাদ্দ মোট এডিপির ৯৩ দশমিক ১৯ শতাংশ।

নতুন বাজেটে সরকারের চলমান ৭ মেগা প্রকল্পের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৫ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা। পদ্মা সেতু প্রকল্পে বরাদ্দ ৫ হাজার কোটি টাকা। মেট্রোরেল প্রকল্পে বরাদ্দ ৪ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। মহেশখালী মাতারবাড়ির কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পে বরাদ্দ ৩ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা। পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৩৫০ কোটি টাকা। পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা। সর্বশেষ দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পে বরাদ্দ ১৫০০ কোটি টাকা।

এদিকে, মন্ত্রণালয়ভিত্তিক সর্বোচ্চ ১০ মন্ত্রণালয় হচ্ছে, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, সেতু বিভাগ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

শান্তিবার্তা ডট কম/১০ জুন ২০২০/

সূত্র- বাংলা ট্রিবিউন




করোনা সংকটের মধ্যেই আগামীকাল উপস্থাপিত হবে নতুন জাতীয় বাজেট

ধর্মপাশায় ব্যাংক কর্মকর্তাসহ নতুন ২ জন করোনা আক্রান্ত

দিরাইয়ে গুদামে আগুন, ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

নতুন রেকর্ড, দেশে গত ২৪ ঘন্টায় ৩ হাজার ১৯০ জন শনাক্ত, মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়ালো

সিলেট শাবির ল্যাবে সুনামগঞ্জের আরও ২২ জনের করোনা শনাক্ত

সিলেটে ৯৪ টেস্টে ৫০ জন করোনা পজিটিভ

উপসর্গহীন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি সংক্রমণ ছড়ায় না: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

একদিনে শনাক্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড- শনাক্ত ৩ হাজার ১৭১জন,মৃত্যু ৪৫

গোলাপগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানসহ আরও ৪ জনের করোনা শনাক্ত

করোনা শনাক্তের দিনেও ফার্মেসিতে ছিলেন তিনি, উদ্বিগ্ন গ্রামবাসী