শিরোনাম
  বয়সের ভারে নুয়ে পড়া বাবার সারাজীবনের সঞ্চয়ই সন্তানের ভালো রেজাল্ট       সিলেটে আরও ৬৬ জনের করোনা শনাক্ত       গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ২ হাজার ৬৩৫ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত, মৃত ৩৫       করোনায় আক্রান্ত সাবেক সিলেট সিটি মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান       ওসমানীর ল্যাবে ১৮৪টি নমুনা পরীক্ষায় ৪৭ জনের করোনা পজিটিভ- সবাই সিলেট জেলার       স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি বন্ধের জন্য সাঁড়াশি অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে দুদক       শাবিতে নমুনা পরীক্ষায় আরও ২২ জনের করোনা শনাক্ত       ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ২ হাজার ৮২৮ জন, মৃত্যু ৩০       গাড়ির নিবন্ধন অনলাইনে করতে হবে       করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির কাছে গেলেই সতর্ক করবে অ্যাপ    


হাম্মাদ হোসেন/দোয়ারা বাজারঃ

দোয়ারা বাজারের সুরমার তীর ঘেঁষে আছে নূরপুর, সোনাপুর দুটি গ্রাম। নদী ভাঙন এতোটা প্রকট আকার ধারণ করে আসবে তা কারো ধারণা নেই। ধারণা থাকলে হয়তো,জন্মের আগে বিধাতার কাছ বলতো -“যেখানে, নদী ভাঙনের ভয়ে সারা রাত মা-বাবা সজাগ থেকে ছেলে মেয়েদের পাহারা দেয়।যেখানে রাস্তার অভাবে গর্ভবতী নারীর নির্মম মৃত্যু হয়, গ্রামে চিকিৎসা নিতে না পেরে ডায়রিয়া বা টাইফয়েডের মতো রোগে মারা বদরের ছোট্ট মেয়েটি,যেখানে ৩/৪কিলোমিটার পথের কাদা মাড়িয়ে যেতে হয় বিদ্যালয়ে।” সেখানে আমাকে জন্ম দিও না! তবুও আমি যেনো বারবার বলি আমাকেই এরকম গ্রামে যদি বিধাতা হাজারবার জন্ম দিতেন আমার ভালোই লাগতো। আমি খুশি হতাম। জানেন কেনো? এই গ্রাম গুলিতে আছে আমার সব প্রকৃত চেনা মুখ,আছে নিরহংকারী মা,খোলা প্রকৃতি,উন্মুক্ত মাঠ,১৯৪৩ সালের টিন শেডের প্রাইমারি স্কুল,বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্র, সেজুল ভাইয়ের মতো জাতীয় চলচিত্র পুরুষ্কার প্রাপ্ত ব্যক্তি, আছে সারাদিন খেতে কাজ করা সোহাগের মতো গোল্ডেন এ প্লাসের মতো ছাত্র।

সেবুল আহমেদ (সোহাগ) মুহিবুর রহমান মানিক সোনালী নূর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এস এস সি পরীক্ষায় ‘জিপিএ ৫ ‘ পেয়ে কৃতকার্য হয়। বার্ধক্য, দিনমজুর বাবা- সিরাজ মিয়ার ৫ ছেলে মেয়ের মাঝে সোহাগই সবার বড়। সোহাগ ছোট বেলা থেকেই খুব মেধাবী। যার ফলে সাংসারিক টানাপোড়েনে থেকেও সোহাগের লেখা পড়া থামাতে দেন নি দিনমজুর সিরাজ মিয়া।নিজেকে শত পরিশ্রমে রেখেই টানছেন নিজের গড়া পরিবার।তারপরও অভাব পিছু না ছাড়ায় বাবার সাথেই সমান তালে কাজ করতে হয় -সেবুল আহমেদ (সোহাগ) কেও।

অন্যের জমিতে দিনমজুর, নদীতে মাছ ধরা নতুবা নূরপুর বাজারে খইয়ের গোল্লা বিক্রি করে উপার্জিত টাকায় চলা পরিবারের ছেলে যদি A+ এর মতো গৌরবময় রেজাল্ট করে, কার না ভালো লাগে? আর এই রেজাল্ট ই যদি হয় ৪কিলোমিটার পথের কাদা মাড়িয়ে যাওয়া স্কুলের সর্বোচ্চ রেজাল্ট। তখনতো আর বলাই লাগে না যে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সোহাগকেউ ফলো করুক। সোহাগের কৃতকার্য রেজাল্টই যেনো দিনমজুর বাবার সারাজীবনের সঞ্চয়। আর সেই সঞ্চয় যাতে দিনকে দিন মানুষে মানুষে ভেড়ে সারা বিশ্ব জ্ঞানী লোকে ভরে উঠুক সেই আশাই করেন সোহাগের বাবা। সোহাগের কাছ থেকে তার কৃতকার্য সম্পর্কে জানত চাইলে সে বলে- মুহিবুর রহমান মানিক সোনালী নুর উচ্চ বিদ্যালয় লেখা-পড়ার সময় আমি ছিলাম ফুল ফ্রি স্টুডেন্ট। কারন -আমার বাবা ছিলেন শারীরিক দিক দিয়ে একজন দুর্বল লোক।তিনি, ভারী কোনো কাজ করতে না পারায়। আমাকে পরিবারের বড় ছেলে হিসেবে বাবা-মাকে অনেক সাহায্য করতে হয়েছে। কখনো আমাকে খেত খামারে কাজ করতে হয়েছে। আবার গত বছর আমার শারীরিক অবস্থার খুব অবনতি দেখা দেয়।যার ফলে, আমি গত বছর পরীক্ষাও দিতে পারিনি। আমার বাবা মানুষের কাছে হাত পেতে সাহায্য তুলে আমাকে বাচানোর চেষ্টা করেছেন। আল্লাহর রহমতে সফলও হয়েছেন।আমার রেজাল্টের পেছনের সবচেয়ে বড় কারিগর আমার বাবা ও আমার পরিবার তারপর রয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। আর্থিক টানাপোড়েন থেকে সোহাগ কতোটুকু এগুতে পারবে তা কেউই জানে না। তবে – কষ্টে নিমজ্জিত দিনগুলো বার বার একটি দোয়ারেই হানা দিবে এরকমটাও বিধির নিয়ম হয়ে পারে না। সবার কাছে সোহাগের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ জন্য দোয়া কামনা করছি।

শান্তিবার্তা ডট কম/৬ জুন ২০২০