আল্লাহর আদেশ–সময় অপচয় করো না,অতিরিক্ত কথা বলো না ও কখনো মিথ্যা কথা বলো না। অথচ এইসব পাপকর্ম লিপ্ত হচ্ছে বর্তমান মোবাইল যন্ত্র নামক প্রেমালাপের মধ্য দিয়ে।

মোবাইল ফোনে অপরিচিত নাম্বারে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে অনেক সোনার সন্তান আজ ধ্বংসের পথে। কন্ঠ শুনলে মনে হয়–না জানি কতো সুন্দর মানুষটি। অথচ সরাসরি দেখলে পাছায় লাথি দেওয়ার ইচ্ছে হবে।

অনেক ছেলেমেয়ে আছে অপরিচিত নাম্বারে কথা বলে।কিছু দিন যাওয়ার পর তারা গভীর প্রেমে আসক্তি হয়ে পড়ে।তখন কথা না বললে যেন তাদের সময় কাটে না। খাওয়া–দাওয়া, ঘুম ও ঠিক মত হয় না। ঘন্টা পর ঘন্টা ছেলেমেয়ে অবাধে কথা বলে কাটিয়ে দেয়। সম্পর্ক যত গভীর হয়,দুশ্চরিত্রা কথা তখন বেড়ে যায়। তখন এরূপ কথা না বললে যেন তাদের ভালো লাগে না। তারা প্রেমের নামে যে দুশ্চরিত্রার কথা গুলো বলে তা শুনে শয়তান ও অবাক হয়ে যায়। তারপর ধীরে ধীরে দেখার ইচ্ছে জাগে। সংসার নিয়ে যত আজে–বাজে স্বপ্ন আছে সবই আলোচনা হয়ে যায়। পরিশেষে দেখার পর যখন পছন্দ হয় না তখন বিচ্ছেদ ঘটে। এতদিন যে কথাগুলো বললো -এটা কি অপচয় নয়?

যার সঙ্গে পরিচিত হয়েছো দু’দিন হলো- তার খোঁজ রাখতে তোমার মন এতো উদ্ধিগ্ন থাকে।
অথচ বাড়ির লোকের খোঁজ রাখতে তোমার মনটা চাই না।
যাঁরা জন্ম না নিলে তোমার জন্ম হওয়াটাই অলৌকিক বিষয় ছাড়া কিছুই ছিল না- তাঁরা হলেন তোমার বাবা মা।
তাঁদের খোঁজ খবর রাখনি।
ছোট ভাই বোনের দিকেও তোমার নজর নেই।

যার সঙ্গে পরিচিত/অপরিচিত নাম্বারে প্রেমালাপ করো, তার পেছনে কার ঘাম ঝরানোর রক্তের টাকা ব্যয় করছো? অবশ্যই পরিবারের টাকা হবে।

একটু চিন্তা করো, তোমার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তোমার পরিবারের আরো দু’জনের পড়ার খরচ দিতে পারছে না। তোমার পড়ার খরচ দিতেই হিমশিম খাচ্ছে ।
পরিবারের অনেক বড় সন্তান লেখাপড়া করতে পারে না। দেখো, কষ্ট করে বাবা তোমাকে পড়াচ্ছে। আর দুর্ভাগা তুমি, মেয়ের পেছনে নিজের ফুলেল মতো সুন্দর জীবনটা নষ্ট করছো।
অনেক পরিবারের ছোট ভাই বোনদের পড়ানোর জন্য বড়জন লেখাপড়া ছেড়ে দিয়েছে। বাবার সঙ্গে সংসারের হাল ধরেছে। তাঁদের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের মূল্য কোথায়? তুমি কি জানো না, বাবার কষ্ট সন্তানকেই বহন করতে হয়।

বাবা মায়ের পরনে ভালো পোশাক নেই। আর তুমি অবাধ্য প্রেমের নেশায় দামি পোশাক, সুগন্ধি ও স্প্রে ব্যবহার না করলে মনে তোমার ভাব জমে না। বাহ্যিক সুন্দরের জন্য বিভিন্ন প্রসাধনী ব্যবহার করো। অথচ তোমার বাবাই জানে-শরীরের ঘাম কতোটা অস্বস্তিকর।

এক ছেলে চার বছর ফোনালাপ করে কোর্ট ম্যারেজ করেছিলো।
এক বছর সংসারও করেছে। তাদের বাবা মা কেউ সেটা জানত না। কারণ দু’জনেই গ্রাম ছেড়ে শহরে লেখাপড়া করতো।
ছেলেটি টিউশনি করে বাড়িতে টাকা না পাঠিয়ে ঐ মেয়ের পেছনে ব্যয় করতো। মূলত মেয়েটি ছেলের প্রেমে না পড়ে, টাকার লোভে পড়ে যায়!
যার ফলে তারা কোর্ট ম্যারেজের পূর্বেই বহু রাত এক সঙ্গে কাটিয়েছে। মেয়ের পেছনে সময় দিতে গিয়ে, ছেলেটির অনার্স ফাইনাল পরীক্ষার রেজাল্ট ভালো হয়নি।
পড়ালেখা করে মেয়েটি তার সতীত্বের মূল্য বুঝলো কোথায়?
যে মেয়ে তার সতীত্বের গর্ব করতে পারবে না,সেই মেয়ের আবার হাজার ডিগ্রির মূল্য কোথায়?

শেষ পর্যন্ত মেয়েটি তাদের চার বছরের প্রেম,এক বছরের সংসার নিমিষেই অস্বীকার করলো।
এই অবাধ্য প্রেমের শেষ পরিণাম বিচ্ছেদ ই ঘটেছে। যদিও ছেলেটি মেয়েটিকে ডিভোর্স দিতে রাজি ছিল না। কতো কষ্ট না হয়েছে ছেলেটির। একি ভালোবাসার প্রতিদান! মেয়েটি হয়তো জানে না সে তার পূর্বে স্থানে ফিরে আসতে পারবে না।

একটা গল্প শুনেছি –
আদিহা ও নাহিরা দুই বান্ধবী ছিল। তারা একসঙ্গে হোস্টেল থেকে লেখাপড়া করতো। যদি দুটি মেয়ে একসঙ্গে থাকে, তাহলে কত প্রকার লজ্জাজনক কথা বলে তা শুনে শয়তান ও অবাক হয়ে যায়, যা অবর্ণনীয়।

একদিন কথায় কথায় নাহিরা বললো আদিহা তুই কি প্রেম করেছিস?
আদিহা বললো আমি কারো সঙ্গে প্রেম করিনি।
নাহিরা গর্ব করে বললো আমি পাঁচজন ছেলের সঙ্গে প্রেম করেছি এবং পাঁচজনের সঙ্গে বিছানায় শুয়েছি।
আদিহা কড়া জবাবে বললো তুই নাহিরা যে স্তরে পৌঁছেছিস, আমি ইচ্ছে করলেই ঐ স্তরে যেতে পারবো। পৃথিবী উল্টে যাবে,কিন্তু তুই নাহিরা হাজার চেষ্টা করলেও আমার স্থানে আসতে পারবি না।
মেয়ে তোমার দৃশ্য যেন নাহিরার মতো না হয়। সতীত্বের মূল্য পৃথিবীর কোনো বস্তু দিয়ে ক্রয় করা যায় না। তাই সময় থাকতে সংশোধন হও। অসংযমী হয়ো না।

সাহিম একটা মেয়েকে খুব ভালোবাসে। প্রতিদিন তার সঙ্গে ঘন্টার পর ঘন্টা ফোনে সময় কাটায়। এভাবে দুই বছর তাদের সম্পর্ক চলতে থাকে। শুধু ফোনে কথা বলে নয়, মেয়েকে এমনভাবে ভরন–পোষণ দেয় যেন মেয়েটি তার স্ত্রী। অনেক প্রেমিক প্রেমিকা আছে এরচেয়ে বেশি টাকা ব্যয় করে।
এদিকে হঠাৎ ছেলেটির বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লে কাজকর্ম আর ঠিকমতো করতে পারে না। চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার ও প্রয়োজন। ছেলেটি মেয়েকে তাঁর বাবার অসুস্থতার কথা জানালে মেয়েটি চিকিৎসা করার জন্য পরামর্শ দেয়। কিন্তু টাকা দিয়ে সাহায্য করে নাই। ছেলেটি মেয়েকে একটি দামি আংটি দিয়েছিল। ছেলেটি আংটির বিষয়ে জানতে চাইলে, জবাবে মেয়ে বললো আংটি টি হারিয়ে যায়। যদিও মেয়ে কথাটি মিথ্যা বলেছে।

এদিকে ছেলেটির অসহায় অবস্থা!
মেয়ের সঙ্গে আগের মতো কথা হয় না। বাবা অসুস্থ হওয়ার ফলে লেখাপড়ার অজুহাত দিয়ে বেশ টাকাও আনতে পারে না। মেয়েটি এই সুযোগে তাদের সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটায়।

এমতাবস্থায়, সাহিমের একবন্ধু সাদী সাহায্যের হাত বাড়ায়। যথাতথা চিকিৎসার ফলে সাহিমের বাবা সুস্থ হয়ে উঠেন।সাদীর মহত্ত্বের কাছে সবার প্রাণ কেঁদে উঠে।
শেষ পর্যন্ত সাহিম সাদীকে জিজ্ঞাসা করলো তুই এত টাকা পেয়েছিস কোথায়।
সাদী বললো আমি জানি তোর বাবা তোকে লেখাপড়া করার জন্য যত টাকা দিতো সবই মেয়ের জন্য ব্যয় করেছিস।আর আমি বাবার টাকা অপচয় করিনি। অল্প অল্প করে জমা করেছি। ভেবেছি দুর্দিনে কাজে লাগতে পারে।
সাদীর কথা শুনে সাহিমের চোখের কোণে জল এসে পড়লো।আর আফসোস করতে থাকে,ফেলে আসা দিনগুলোর কথা ভেবে।
তোমার দৃশ্য যদি সাহিমের মতো হয়, তাহলে তোমাকে অনুরোধ করছি– সংশোধন হও,পরিবারকে বাঁচাও,বংশের মর্যাদা রক্ষা করো, অজন হয়ো না।

(লেখা লেখকের নিজস্ব চিন্তা চেতনার, শান্তিবার্তা ডট কম আইনী কোন দায়ভার নেবেনা)

শান্তিবার্তা ডট কম/২৯ মে ২০২০/ ওবায়দুল মুন্সী