বাংলাদেশ একটি কৃষি নির্ভরশীল দেশ।
বাঙালির প্রধান খাবার ধান ও মাছ।
যা কৃষি কাজ থেকে উৎপাদন হয়। বাংলাদেশে প্রায় ৮০% ধান উৎপাদন করা হয়ে থাকে ।কিন্তু এই সকল ধানের উৎপাদন খরচ কত টাকা হয়ে থাকে আদতেই কি আমরা তা জানি?
তাহলে চলুন আজকের এই ছোট্ট প্রতিবেদনে কিছুটা হলেও জানার চেষ্টা করি। আমাদের সুনামগঞ্জকে
দেশের হাওর রাজধানী বলা হয় যা দেশের ধান পউৎপাদনের প্রধান কেন্দ্রস্থল।
আমাদের দেশের শুধু্ সুনামগঞ্জের হাওর বাঁধ রক্ষায় সরকার প্রতিবছর বিশাল একটি বরাদ্দ দিয়ে থাকেন। সার,বীজ-সহ বিভিন্ন কৃষি সামগ্রী বরাদ্দ, বর্তমানে ধান কাঁটার জন্য ডিজিটাল মেশিনের জন্য সরকার বিরাট বরাদ্দ দিয়েছেন।
যে পরিমান বরাদ্দ সরকার ব্যয় করেন সেই পরিমাণ ধান উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি কি?
সরকারি ব্যয় ব্যতিত প্রতি কৃষক এক হেক্টর জমিতে ৪৫/৫০ হাজার টাকা খরচ করে থাকেন।

২০২০ সালে সুনামগঞ্জ জেলায় প্রায় ২১৯৩০০ হেক্টর জমিতে বোরোধান রোপণ করা হয়েছে।
এক হেক্টর জমিতে ১১৫/১২০ মণ ধান উৎপাদন হয়।

একমন ধানের মূল্য বর্তমান বাজারে ৬০০/৭০০ টাকা।কিন্তু উৎপাদন ব্যয় কতটাকা হয়েছে।

এ-ই বছর শুধু বাঁধ রক্ষার জন্য সরকার ১৩২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন।

এক হেক্টর জমিতে শুধু বাঁধ রক্ষার বরাদ্দ ৬০০০+টাকা, কৃষকের ব্যয় ৪৫০০০ টাকা,মোট ব্যয় ৫১০০০ টাকা।
সকল ব্যয় মিলে এক মন ধানের উৎপাদন খরচ ধারায় ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা,,

তবে কেন এমন হচ্ছে?উৎপাদন খরচ কমানোর কি কোন রাস্তা নেই?১০০% আছে তার প্রধান রাস্তা দেশের সকল নদীগুলো গভীরতা করা এবং সকল হাওরের চতুর্পাশে উঁচু করে স্থায়ী বেরি বাঁধ নির্মাণ করা।কিছু কিছু স্থানে কালবার ও সুইস গেইট এবং উন্নত মানের মেশিন সকল হাওরে স্থাপন করা।

নদী গভীরতার কারণ পাহাড়ি পানি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য,,সুইস গেইট ও রাবার বীজের সাথে উন্নত মেশিনের কারণ আগাম বৃষ্টিতে হাওর ডুবে গেলে পানি নিষ্কাশন সম্ভব।

যা প্রতি বছর বাঁধ স্থাপনার জন্য দেশের বিশাল একটি বরাদ্দ চলে না যায়।
এমনটা করলে প্রায় সকল হাওরে ধানের সাথে মাছ চাষের উপযোগি হবে।

দেশের এমন হাওর রয়েছে যে পাঁচ লক্ষ টাকার ধান উৎপাদন হয় কিন্তু বাঁধের জন্য সেই হাওরে বিশ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়ে থাকে।
এমন কেন?
তার কারণ হচ্ছে কিছু কর্মকর্তা রয়েছেন যে একটি বাঁধ পাঁচ ফুট হলে রিপোর্ট দেন ৫০ ফুট,,তখন সরকার বাধ্য হন বিশাল বরাদ্দ দিতে।যে বাঁধ ২০ হাজারে সম্ভব সেখানে দুই লক্ষ বরাদ্দ দেন।

আমাদের দেশ যেহেতু কৃষি নির্ভর তা-ই দেশ উন্নয়ন করতে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা রুপান্তর করতে,,,মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কৃষি খাতে উৎপাদন ব্যয় কমানোর বিকল্প নেই।

আমি হাওরের পারের সন্তান,, আমার গ্রামে একটি বাঁধ রয়েছে কিন্তু সেই বাধটি স্থায়ী ভাবে বন্ধ অথবা ছোট একটা কালবার করে দিলে স্থায়ী সমাধান হয়ে যায়।যেখানে সরকারের প্রতি বছর বিশাল অংকের টাকা ব্যয় না হয়। এবং বিভিন্ন জায়গায় মাটির জন্য গর্ত করা হয় যা গ্রামবাসীর জন্য বিরক্তিকর।

স্থায়ী সমাধান হলে দেশের ও কৃষকের উন্নয়ন হবে,,কারণ প্রতিবছর বাঁধের জন্য মাটি পাওয়াটা বা এক জায়গায় থেকে মাটি উত্তলন করলে উক্ত জায়গায় অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাচ্ছে।এভাবে কয়েক বছর চললে ভবিষ্যতে মাটি পাওয়া যাবে না।দূর থেকে মাটি আনতে হবে যা বাঁধ রক্ষার জন্য ব্যয় বেড়েই যাবে।তখন উৎপাদন খরচ বেড়েই চলবে।
তা-ই এখন থেকেই হাওরের বাঁধ রক্ষা পরিকল্পনার করতে হবে।

আমি বিশ্বাস করি যে সকল নদী হওরের কাজ এক বছরে সম্ভব না,,তবে প্রতি বছর ১০/১৫টি হাওর ২/৪টি নদীর কাজ করা সম্ভব। ধীরে ধীরে সকল হাওরগুলোর স্থায়ী সমাধান হয়ে যাবে।
বিগত বছরগুলো থেকে বর্তমানে খরচা হাওরে ৮০% নিরাপদ,,তার প্রধান কারণ হচ্ছে সোনাপুর রাবার ব্রীজ ও ঘাগটিয়া সুইস গেইট।

এ-ই পরিকল্পনার সাথে হাওর নিয়ন্ত্রণ করে সুনামগঞ্জ সকল হাওরে মাছ চাষ সম্ভব।হাওরের চতুর্দিকে বেরি বাঁধ থাকলে ধান কাটার সাথে সাথে মাছ চাষ করে বৈদেশিক মুদ্রা দেশের উন্নয়নে বিশাল ভুমিকা রাখবে।
দেশের কৃষকদের বর্ষাকালে
বিশাল জনগোষ্ঠী কাজের ব্যবস্তা হবে।

বিঃদ্রঃনিজে যতই সাদা কালো হইনা কেনো,দেশটাকে রঙিন রাখার স্বপ্ন দেখি।
সফলতা আমার হাতে নেই,কিন্তু সফলতার কাতারে দর্শক হতে বাধা নেই।
আমি ই বাংলাদেশ 🇧🇩 ❤️

শান্তিবার্তা ডট কম/২৯ মে ২০২০/ গিলমান আহমদ