শিরোনাম
  প্রেয়সী 🤹‍♀️- জেমস্ রিপন বাড়ৈ       সিলেট শাবির ল্যাবে ৯০ নমুনা পরীক্ষায় ৬ জনের করোনা পজিটিভ- সবাই সুনামগঞ্জের       নিজের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট নিজেই সাইন করলেন তিনি       শামসুদ্দিনে করোনা উপসর্গ নিয়ে জৈন্তাপুরের ইউপি সচিবের মৃত্যু- বাপসা’র শোক প্রকাশ       বাড়ছে না সাধারণ ছুটি, ৩১ মে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অফিস       ওজন কমাতে চাইছেন? হাতের কাছে রাখুন এসব খাবার       করোনাভাইরাসে নতুন ১৫৪১ জন শনাক্ত, মৃত্যু আরও ২২ জনের       ভালবাসার বন্ধনে- মাসুদ       করোনা নিয়ন্ত্রণে আসার আগে খুলবে না শিক্ষা প্রতিষ্ঠান       দেশের সকল হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশ    


শান্তিবার্তা ডেস্কঃ


প্রেয়সী- জেমস্ রিপন বাড়ৈ

দুরন্ত যৌবনের কোন এক সূর্যোদয়ে,
এলোমেলো ছিলো মনের আকাশ,
ফালি ফালি সাদা মেঘ খেলা করছিল,
হটাৎ এক পশলা বৃষ্টি এসে ভিজিয়ে দিল,
মনের খোলা বারান্দা।
মুহুর্তে স্বপ্নপরি উড়ে যায় হিমালয়ের দেশে,
অজানা শিহরণ ঢেউ খেলে যায়,
স্বপ্ননীল আঙ্গীনায়,
গোলাপের গন্ধময় হাওয়ায়।
স্মৃতির স্বর্নালী পাতা জুড়ে,
অম্লান স্বরলিপি হয়ে শৃঙ্খলিত হলো,
চিরকালের মতো।
এক পলক দৃষ্টি বিনিময়ের মাঝে,
মস্ত বড় একটা মহাকাব্য লুকিয়ে থাকতে পারে,
বুঝতে সময় লাগেনি বেশিদিন।
প্রেমের জয়মাল্য পড়ে
প্রিয়তম হয়ে গেলাম নিমিষেই,
অপরুপ সুনীল কল্লোলের মাঝে দাড়িয়ে আছে অদৃশ্য মানষ কন্যা।
রুপের বর্নচ্ছটায় দেখা গেল,
প্রিয়তমা ধবল দুধের সাথে আলতা মিস্রিত রক্তবর্ন চেহারায় দাড়িয়ে।
সে শত নয়, হাজার নয়, লক্ষ, লক্ষের মধ্যে অগ্রগন্য ও অনন্য।
মস্তক অপূর্ব সুবর্নের আলোয় প্রদীপ্ত।
কুঞ্চিত কেশপাশ বৈশাখীর দুরন্ত মেঘের ন্যায় কৃষ্ণবর্ন, বেনীগুলো দৃঢ় আকর্ষনে সর্পের ন্যয় কুন্ডলায়িত।
তাহার নয়ন যুগল প্রবাহিনী ঝড়নার পার্শে উপবিষ্ট কপোতযুগলের ন্যায়,
যাহা সুতীক্ষ্ম বিদ্যুৎ বর্ষন করে।
তাহার গণ্ডদেশ কদলী বৃক্ষের ঝাড় ও ডাগর লতার মৌ মৌ করা চোখ জুড়ানো ঝোপ।
তাঁহার ওষ্ঠধর দাড়িম্ব ফুলের ন্যায় রক্তবর্ন যা হাস্য লহরীতে পূর্ন ও গন্ধরস ক্ষরণকারী।
তাঁহার হস্ত বৈদূর্য্যমনিতে খচিত সুবর্নের অঙ্গুরীয় স্বরুপ,
তাঁহার সারা শরীর নীলকান্ত ও সূর্য্যকান্ত মনিতে খচিত গজদন্তময় শিল্পকার্যের ন্যায়,
তাঁহার দৃশ্য দক্ষ মালির হাতে সাজান পুস্প বিথীর মতো পরিপাট্য।
তাঁহার মুখ চন্দ্রাতপের মতো স্নিগ্ধ সুমধুর,
হাঁ, সে সর্বতোভাবে অনুপম ও মনোহর।
ওহে, আমার রুপসী প্রকৃতি,
পরিচয় করে নাও,
এই হলো প্রেয়সী,
এই হলো আমার সখী।
তাকে দেখতে দেখতে আমি ঘুমিয়ে পরলাম,
কিন্তু আমার হৃদয় হরিণীর ন্যায় সদা জাগ্রত ছিল।
আমি সংকটে পড়লেই সে এসে হাজির হয়,
পাশে এসে দাড়ায় দ্বিধাহীন চিত্তে।
ঐতো শুনলাম আমার প্রিয়ের রসাশ্রীত স্বর,
দুয়ারে আঘাত করে বাস্পরুদ্ধ কন্ঠে বলছে,
একটি বারের জন্য দুয়ার খুলে দাও প্রিয়তম,
আমি তোমায় দেখতে চাই,
একটু ছুঁতে চাই।
আমি অপ্রস্তুত ছিলাম বলে দুয়ার খোলা হল না।
অভিযোগের পাহাড় এসে ভিড় করল,
প্রেমহীন হৃদয়কে স্পন্দমান করতে হবে আগে,
দুষ্ট চিন্তায় মস্তক আজ শিক্ত,
বিবেকের দংশনে লজ্জিত আর ক্লিষ্ট।
এর সংশোধন না হলে দুয়ার খুলি কি করে?
প্রিয়া, ভাঙ্গা দরজার ফাঁক দিয়া হস্ত বিস্তার করল,
সুগন্ধ রসে কবাট শিক্ত হলো,
ফুরফুরে বাতাশে মাতাল করা গন্ধে মোহাবিষ্ট হলাম,
তাহার জন্য হৃদয় চঞ্চল হলো, উচাটন হলো।
প্রেমাবেগে উন্মত্ত হয়ে বলে উঠলাম,
দাড়াও, দাড়াও মোর প্রিয়ে, মোর কপোতি, মোর বিনোদিনী, মোর শুদ্ধমতি,
কিঞ্চিত অপেক্ষা করো ,
দুয়ার খুলে দিচ্ছি।
আমি একান্ত নিজের প্রিয়ার জন্য দুয়ার খুলে দিলাম।
কিন্তু হায় !
আমার প্রিয়া ফিরিয়া গিয়াছেন,
আমি তাকে উন্মাদের মতো অন্বেষণ করলাম,
কিন্তু পেলাম না,
আমি তাকে উচ্চস্বরে ডাকলাম,
তিনি আমাকে উত্তর দিলেন না।
খুঁজতে খুঁজতে
রাত্রি গভীর হলো,
নগরে প্রহরারত পাহাড়াদারেরা আমাকে দেখতে পেল,
চোর সন্দেহে আমাকে প্রহার করিল,
ক্ষতবিক্ষত করিল,
ওৎ পেতে থাকা ছিনতাইকারীরা,
আমার বস্ত্র কাড়িয়া লইল।
ওহে, প্রকৃতির জাগ্রত সদস্যরা,
আমি তোমাদিগকে শফত করে বলিতেছি,
তোমরা যদি আমার প্রিয়তমের দেখা পাও, তবে তাঁহাকে বলিও যে, আমি প্রেমপিড়ীত, ভালোবাসায় উত্তপ্ত।
এ শুন্য বুকে সেই একমাত্র গুঞ্জরীত প্রেয়সী।
আমার প্রিয়া শ্রেষ্ঠ, তোমার প্রিয়া হতেও শ্রেষ্ঠ,
আমার প্রিয়া সর্বাংশে স্বতন্ত্র,
অন্যদের প্রিয় হতেও আমার প্রিয়া বিশিষ্ট।
আমি দৃঢ় চিত্তে বলছি,
ভালবাসার সারশিরা কখোনো চিল হবে না,
আমার প্রীয়াকে খুঁজতে থাকব অনন্তকাল।
হয়ত, আবার কোন এক সংকটে,
হটাৎ দেখা হবে,
কাঙ্খিত প্রেয়সীর বেশে।।

শান্তিবার্তা ডট কম/২৭ মে ২০২০/ জেমস্ রিপন