শিরোনাম


ছেলে আমার মস্ত মানুষ, মস্ত অফিসার মস্ত ফ্ল্যাটে যায়না দেখা এপার ওপার। নানান রকম জিনিস আর আসবাব দামী দামী সব চেয়ে কম দামী ছিলাম একমাত্র আমি ছেলে আমার আমার প্রতি অগাদ সম্ভ্রম আমার এ ঠিকানা তাই বৃদ্ধাশ্রম।

কানে যেন নচিকেতা’র সেই কঠিন বাস্তব গানের লাইন গুলো ভেসে আসছে।তাই করোনাভাইরাস এই কঠিনসময়ে কেমন আছেন সেইসব বৃদ্ধাশ্রমের শ্রদ্ধেয় নিঃসঙ্গ বাবা মায়েরা তাদের কথা মনেকরে মনটা আজ ভারাক্রান্ত ।

ছোটবেলায় সন্তানকে ঘুম পাড়ানির গল্প বলে কত মমতায় মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়াতো মা । শরীর খারাপ থাকলে নিজের ঘুম খাওয়া দাওয়া, নাওয়া ছেড়ে মাথার কাছে বসে থাকতো আর সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করে যেত অবিরত সে তো মমতাময়ী মা। নিজের ভালো কাপড় কিংবা জুতো কেনার প্রয়োজনীয়তা থাকার সত্বেও না কিনে সন্তানের আবদার পূরনের মানুষটি বাবা। কিন্তু কি আমরা সেই প্রিয়মানুষ গুলোকে বৃদ্ধাশ্রমে দিয়ে আসি কতটা সহজে, কতটা নিষ্ঠুরতার পরিচয় দেই তাই না? ভুলে যাই এক মাঘে শীত যায় না, এই দিন আমাদের কাছে আসতে পারে, আমাদের সন্তান রা ও আমাদের একই ভাবে দিয়ে আসতে পারে সেই নিঃসঙ্গতার নিবাসে।

যারা কিনা ভয় পাবে বলে সন্তানকে বুকে আগলে সাহসও দিতেেন কিন্তু এই মহামারীর করোনাভাইরাস কালে একাকী কষ্ট চেপে রাখা মানুষগুলোর পাশে নেই কেউ। ঐ সন্তানরা মনে কি এতটুকু ও দাগ কাটছে না তাদের মা বাবার কথা মনে করে? তারা তো এখন নিজেদের কথা নিকুচি করে আপনাদের জন্যই মঙ্গল কামনা করছে। এই মহামারী কালে ও নিজের কথা না ভেবে সেই সন্তানদের সুস্থতা কামনা করে চলছে তারা। হায়রে নিয়তি। করোনার ভয়াবতায় কি নিজেদের ভুলটাকে শুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা ফিরিয়ে আনতে পারে না তাদের মা বাবাকে? বলা হচ্ছে, করোনায় সংক্রমিত হওয়ার সবথেকে বেশি ঝুঁকিতে বয়োবৃদ্ধ এই ব্যক্তিরা। বার্ধক্যজনিত কারণে এই সকল মানুষেরই মৃত্যুর হার বেশি। কিন্তু এই কথাগুলো তো ঐ নিষ্ঠুর সন্তাদের মনের দরজায় কড়া নাড়ছে না! তারা হয়ত অনেক আগেই নিজেদের বিবেকের দরজায় খিল দিয়েছেন। সেই বাবা মা হয়ত মনটাকে শক্ত করে শেষ সময়ের আপন ঠিকানা করতে নিরুপায় । কঠিন এই বাস্তবতাকে মেনে অনেক বৃদ্ধ বাবা-মা আশ্রয় নেন সেখানে। করোনা ভয়াবহতার এই মহামারির সময় কেমন আছেন বৃদ্ধাশ্রমে থাকা সেই সকল বাবা-মা?

এই সময়ে সব থেকে ঝুঁকিতে আছেন বৃদ্ধ এই মানুষেরা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, করোনার পরবর্তী হটস্পট হতে পাড়ে এই সকল বৃদ্ধাশ্রম।

কঠিন এক সত্য, কঠিন এক বাস্তবতা। জীবনের এই শেষ সময়ে এতটুকু স্বজন সান্নিধ্য না পেলেও এই বৃদ্ধ মানুষগুলোর চাওয়া তাদের সন্তানদের যেন দেখতে না হয় এমন দিন। এই নিঃস্বঙ্গতার নীড়ে যেন তাদের সন্তানের আসতে না হয় কোনদিন।

যদিও বৃদ্ধাশ্রমগুলোর ব্যবস্থাপনায়েও রয়েছে নানা রকমের মতামত। তবে আমাদের পক্ষ থেকে কর্তৃপক্ষ দের সাথে যোগাযোগ করে এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সাধ্যমত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ রইলো।মানবতার চিহ্ন যেন রাখা হয় এই বৃদ্ধাশ্রম গুলোতে।আবারও যেনো প্রমাণিত হয় মানবতার জয় সর্বত্র।

আসুন যে যার জায়গা থেকে একটু জানতে চেষ্টা করি। নিঃসঙ্গতার নীড়ে, ঐ মা বাবারা বৃদ্ধাশ্রমে কেমন আছেন করোনার কালে??

শান্তিবার্তা ডট কম/৭ মে ২০২০/ফারজানা মৃদুলা,লেখকঃ কলামিস্ট