শিরোনাম
  সরকারি কর্মকর্তাসহ সিলেটে আরও ১৩ জনের করোনা শনাক্ত       হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন করোনা আক্রান্ত সুনামগঞ্জের চিকিৎসক দম্পতিসহ ৬ জন       জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঢাকায় আসা-যাওয়া বন্ধ       মৌলভীবাজারে দরিদ্রদের বদলে বিত্তশালীরা তালিকায়       জেলা খাদ্য শস্য সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটির সভা       ঘূর্ণিঝড় আম্ফান : বাংলাদেশে মঙ্গল-বুধবার আঘাতের সম্ভাবনা       করোনায় নতুন আক্রান্ত ১২৭৩, মৃত আরও ১৪ জন       উপকারভোগীদের তালিকা প্রকাশ করে অভিনন্দিত হচ্ছেন ইউপি চেয়ারম্যানরা       সিলেট বিভাগে একদিনে আরও ৩২ করোনা রোগী শনাক্ত       নগদ সহায়তা কার্যক্রমে অনিয়মে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি টিআইবির    


ছাতক প্রতিনিধিঃ

দিন দিন বাড়ছে করোনা ভাইরাসের আক্রান্তের সংখ্যা। তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বাড়তি আতঙ্ক। দেশজুড়ে লকডাউন পরিস্থিতি থাকায় যাতায়াতের অসুবিধার কারণে প্রান্তিক এলাকার চিকিৎসা সেবাগ্রহিতাদের উপজেলা সদরের বাইরের হাসপাতালসমূহে স্বাভাবিকভাবে চিকিৎসা সেবা নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। করোনায় সুরক্ষার দিক চিন্তা করে বেশিরভাগ প্রাইভেট হাসপাতালের অভিজ্ঞ ডাক্তাররাও গুটিয়ে নিয়েছেন নিজেদের চেম্বার।

সবমিলিয়ে এই পরিস্থিতিতে বিপাকে রয়েছেন প্রান্তিক এলাকার স্বাস্থ্যসেবাগ্রহিতারা। তবে এই করোনা সংকটেও অনেক উদারমনা মানবিক চিকিৎসক ও প্রাইভেট স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান দেশের সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা সেবায় এগিয়ে এসে আশা আলো জাগিয়েছে। এরকমই একটি প্রাইভেট স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান জাবা মেডিকেল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার হাসপাতাল। সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার পৌরশহরে অবস্থিত এই প্রাইভেট স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটি করোনাকালেও নিজের সীমিত জনবল নিয়ে নিরবিচ্ছিন্নভাবে প্রতিনিয়তই চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

বর্তমানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও স্টাফ সংকট থাকা স্বত্ত্বেও প্রতিনিয়ত চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করার সুযোগ থাকায় জাবা মেডিকেল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার হাসপাতাল এখন ছাতক-দোয়ারার প্রান্তিক মানুষদের চিকিৎসা সেবার ভরসাস্থল হয়ে দাড়িয়েছে। জানা যায়, হাসপাতালটিতে আলট্রাসনোগ্রাফি থেকে শুরু করে প্রায় সবধরনের সাধারণ রোগের পরীক্ষা করা হয়। আগে প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার বিভাগীয় শহর থেকে অভিজ্ঞ ডাক্তাররা রোগী দেখতে জাবা মেডিকেল হাসপাতালে আসতেন। কিন্তু এখন করোনার কারণে বাইরের ডাক্তাররা এখন আর আসতে চাচ্ছেন না। জনবল সংকট থাকা স্বত্ত্বেও সেবাগ্রহিতাদের জন্য সার্বক্ষণিক চালু রাখা হয়েছে প্রতিষ্ঠান। তাই সীমিত ডাক্তার দিয়েই দেওয়া হচ্ছে সেবা।

হাসপাতালের মা ও শিশু বিষয়ে অভিজ্ঞ ডাঃ রুমানা রহমান এমবিবিএস প্রতিবেদককে বলেন, ‘বাইরের ডাক্তার না আসায় সীমিত জনবল নিয়ে রোগীদের চাপ সামলাতে হচ্ছে। এখন রমজান মাস হওয়ায় প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত রোগী দেখছি। তবে রাত আটটা পর্যন্ত হাসপাতাল খোলা থাকে। হাসপাতালের হটলাইনে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করার সুযোগ রাখা হয়েছে।’

পার্শ্ববর্তী দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা ইসলাম উদ্দিন (৩৪) বলেন, ‘আমার স্ত্রী গর্ভবতী। বর্তমান পরিস্থিতিতে তার শারীরিক অবস্থা চেকআপ করতে সিলেট নেওয়াও সম্ভব হচ্ছেনা। আশপাশের এলাকায়ও মান সম্মত কোনো হাসপাতাল নেই। তাই তাকে নিয়ে এখানেই এসেছি সেবা নিতে। এর আগেও এখানে ডাক্তার দেখিয়েছি। এই হাসপাতালের সেবার মান যথেষ্ট ভালো।’

জাবা মেডিকেল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার হাসপাতালের প্রতিষ্ঠা চেয়ারম্যান ও স্বত্বাধিকারী আলহাজ্ব মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এখানে চিকিৎসা সেবা নিতে যারা আসেন তাদের বেশিরভাগই ছাতক-দোয়ারার প্রত্যন্ত গ্রাম এলাকার নিন্ম-মধ্যবিত্ত ও হতদরিদ্র পরিবারের। যেকারণে তাদের আর্থিক দিক বিবেচনা করে স্বল্প মূল্যে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছি। অনেক সময় যারা একেবারেই অস্বচ্ছল ও অসহায় মানবিক দিক বিবেচনায় তাদেরকে ফ্রি চিকিৎসা সেবাও দিচ্ছি। করোনার কারণে বিভাগীয় শহরের ডাক্তার আসা আপাতত বন্ধ থাকায় হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু চিকিৎসা সেবাগ্রহিতারা বার বার কল করে অনুরোধ করায় সীমিত জনবল নিয়েই হাসপাতাল থেকে নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। শুধু করোনা সংকটেই নয়, হাসপাতালটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজোবধি আমরা মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি।’

শান্তিবার্তা ডট কম/৭ মে ২০২০/আশিস রহমান