শিরোনাম


আফরোজ রায়হানঃ পৃথিবীর বয়স অল্প নাকি বুড়ো হয়েছে! মানবের যৌবনকাল চলছে! না প্রকৃতি নিজেই এখন বলশালী এক তীর্যক পুরুষ! সে যাই হোক- দু’য়ে মিলে লড়াইটা কিন্তু জমে ওঠেছে ভয়ংকর। রেফারির ভূমিকায় নিশ্চয় একজন আছেন। সময়মত তিনিই শেষ বাঁশিটা বাজাবেন। তার আগ পর্যন্ত চলতেই থাকবে। আবহমানকাল ধরে এভাবেই তো চলছে। কখনো জয়ের নম্রতা দেখেছে পৃথিবী আবার কখনোবা দখলের নগ্ন উল্লাস। সভ্যতার বাম-ডান বিচারে শুরুটা ছিল- ন্যায়ের সাথে অধর্ম, সত্যের সাথে অসুর এবং আলোর সাথে রাতের যাত্রা। সংঘাতের সুচনাটাও ঠিক তখন থেকেই। তবে ন্যায়, অসত্য মুখোমুখি দাঁড়ালে সর্বদা আলোর জয় হয়েছে। দেবতাদের বিরুদ্ধে সব সময় অসুরের পরাজয়-ই ধারণ করেছে মহাকাল।

কিন্তু লড়াইটা যখন চাঁদের সাথে আলোর! সূর্যের সাথে পৃথিবীর! প্রকৃতির সাথে প্রাণের! লড়াইটা তখন জীবনের সাথে টিকে থাকার। লড়াইটা তখন সত্যের সাথে অনাবিল সুন্দরের। সর্বোপরি চলছে প্রাণের সাথে স্পন্দনের এক ভয়ানক দু:সময়। কি লিখবে মহাকাল ! ভাগ্যবিধাতার শেষ বাঁশিতে বেজে উঠবে কোন অলৌকিক সুর! যেখানে বেঁচে থাকাই শেষ কথা নয়, বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্বটাও মানবের শ্রেষ্ঠত্বকে আরেকটু মর্যাদাবান করে তুলেছে। আপন প্রাণের অস্তিত্বের জন্য বাঁচিয়ে রাখতে হবে অন্যকেও। যেমন জলের তলে ঘাসের পাহারায় চিংড়ি তার প্রজন্ম বাড়ায়। নদীতে খঁড়কুঁটো বাঁচিয়ে তুলে পিঁপড়ের জীবন। ক্লান্ত অবস্বন্ন দেহ নিশ্চিন্তে রাত্রির কাছে সমর্পন করে নতুন একটি সুচনার জন্য। সমগ্র বেঁচে থাকা জুড়ে বাড়ে সময়, স্বপ্ন, সংসার, বাড়ে পৃথিবী। পাখি, ফুল, বৃষ্টি পাহাড়, সমাজ, ধর্ম, বিজ্ঞান সর্বোপরি জীবনের সাথে অকৃত্রিম নির্ভরতায় চলে প্রকৃতির এক অদ্ভুত আনন্দ হিন্দোল। অভূত এই আবেগী সৌন্দর্যকে অস্বীকার করতে পারেন নি বলেই হয়ত বিশ্ববিধাতা একদিন এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছিলেন। অন্ধকারেই আলোক অধিক উজ্জ্বল বিধায় তিনি অধর্মকেও বিনাশ করেননি।

পৃথিবীর এই বয়সে তাদের সংখ্যা আজ আর নেহাত কম নয়। সময়ে সময়ে এইসব হীন, অসৎ, অসুরেরাই সংঘবদ্ধ হয়ে আলো কে করেছে রাহুগ্রস্থ। এরা কখনো ভাইকে দিয়ে ছুরি চালিয়েছে ভাইয়ের গলায়, সামাজিক বিচারের নামে প্রহসন চালিয়েছে নির্বিবাদে। এরা মানুষকে মানুষ, ঘরকে ঘর আর রাষ্ট্রকে লেলিয়ে দেয় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। এরাই ধর্মকে ধর্মের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে প্রতিনিয়ত অধর্ম ফলাতে ব্যস্ত। এরাই মহাভারতে কুরুক্ষেত্রকে অনিবার্য করে তুলেছিল। বাইবেলের যীশু ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন এদের হাতেই।এরাই কারবালার মাঠে ইমাম হোসেনকে নির্মমভাবে হত্যা করে মিম্বরে ওঠে ঘোষনা করেছিল আল্লাহর আদেশ। ইতিহাস তাদের এই নির্মমতাকে কখনোই ক্ষমা করেনি বরং দমন করতে চেয়েছে কঠোর হস্তে। বস্তুত ধর্ম কখনো অন্যায়, অসত্য, অসুন্দরকে সমর্থন করেনা। দুপুরের ময়দানে ছায়া ফেলে যে বৃক্ষ পথিকের ঘাম শুষে, শ্বাস দেয়, বাঁচায়- কোন সে পাষান যে, তার বুকেই করাত চালায়! অন্ন ধ্বংসের পোঁকা খেয়ে যে পাখি আজো অনবরত কৃষকের পেট বাঁচায়, তার বুকে ছুড়েো বিষমাখা তীর! যেটুকু রোদ জ্বলে পাহাড়ের চূড়ায়, গহীন অরণ্য যেটুকু বুনো ঘ্রাণ তোমার হৃৎপিন্ডে পৌছায়- কোন সে অধর্মে তুমি তার কাছেই বিলুপ্তির পত্র পাঠাও! কোন সে পাষান তুমি সমুদ্রে, ঘাসে, হাওয়ায় ছুড়ো বিষ! কোন সাহসে বানিজ্যের নামে তোমার দখলের দূত ছুটে সীমানা পার হয়! কতৃত্বের নামে তোমার খোলা তরবারি মুছে দেয় সকল মানবিকতার দেয়াল! তুমি অধর্ম, অন্যায়, অসুর! ভাবছো বীরত্ব তোমার একলা’র! পায়ের তলার মাটি সরে গেলে কতটুকু ডানা থাকে তোমার ! বাহুতে বল কেমন! কতটুকু চওড়া দেখি সিনা, যদি তাতে বৃক্ষ ওম না দেয়! কার গলা কাটবে! অন্ধকারে নির্ণয় করো দিক, দেখি। জেনে রাখো- সূর্যের সাথে গোমড়া মুখো পেঁচাও শত্রুতা দেখায়। নিউটনের তৃতীয় সুত্র ফিরে এলে- ইটের বদলে পাটকেল মেনে নিতে হয়। এতদিন নির্বিচারে যে ধ্বংসলীলা বহন করে চলেছে ফুল। যতটুকু ব্যথা জমা অসুরের করাতে বিদীর্ণ বৃক্ষের গায়। যেটুকু বিষন্নতা পাহাড়ের চূড়ায়, নিবিড় অরণ্য, জল, মাটি জানে কেমন বেদনা হয় সবটুকু সয়ে গেলে নি:দ্বিধায়! অমানুষেরাই কেবল জয় আর দখলের পার্থক্য খুজেনা। মৃত্যু ও জীবন মুখোমুখি হলে কেবল মানুষ বুঝে অন্যকে বাঁচিয়ে রাখার প্রচেষ্টাও মানবের শ্রেষ্ঠত্বকে আরো মর্যদাবান করে তুলে।

২৭/০৪/২০২০ খ্রি./আফরোজ রায়হান

মুক্তমত/কলাম বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। shantibarta.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে shantibarta.com-আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।  

শান্তিবার্তা ডট কম/২৭ এপ্রিল২০২০