শিরোনাম
  ইত্যাদি’র এবারে পর্বে মঞ্চ মাতাবেন সিলেটের তসিবা       বিধি-নিষেধ শিথিলতার মেয়াদ আর বাড়ছে না,চলবে ৫ আগস্ট পর্যন্ত       জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সাকিবের ব্যাটে বাংলাদেশের সিরিজ জয়       মাগুরায় সরকারি ভাতাভোগীর টাকা অন্যের মোবাইলে       অ্যাডভোকেট শফিকুল আলমের মৃত্যুতে পরিকল্পনামন্ত্রীর শোক       পল্লীবন্ধু হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল       পাগলা বাজারে মনসুর ফ্যাশনের উদ্বোধন       নরসিংদীতে কাভার্ডভ্যান-লেগুনা সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৬       মেসেঞ্জারে ঢাবি ছাত্রীকে হেনস্তা, তদন্ত কমিটি গঠন       সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করোনা আক্রান্ত    


Spread the love

আমাদের মানুষ আমাদের ডাক্তার প্রিয় গৌতম দা। আরেকজন গরিবের ডাক্তার। তিনিও সুনামগঞ্জী। একজন উদার মনের মানুষ। ‘সেবাই ধর্ম’ এই মহাবাণীকে জীবনের ব্রত হিসেবে নিয়েছেন। তাইতো হিন্দু- মুসলিম সর্বজাতি মানুষের প্রিয় হয়ে ওঠেছিলেন।

ডা. গৌতমকে চিনে না এমন মানুষ খুবই কম আছে সুনামগঞ্জে। মাত্র কয়েকদিন পূর্বে, মহামারি করোনার রেডসিগন্যাল এলাকা নারায়গঞ্জ ৩০০ শয্যার হাসপাতালে তাকে পদায়ন করে জয়েন্ট করতে বলা হয়। পরিস্থিতি জেনে বুঝেও তিনি নির্ভিঘ্নে রাজি হয়ে যান। কারণ, তিনি জানতেন – “পরার্থে প্রাণ যে করিবে দান, ক্ষয় নাই তাঁর ক্ষয় নাই”! করোনার ভয়ে, অনেক অভিজ্ঞ ডাক্তার যখন নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে তখন জীবনের মায়া ত্যাগ করে মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করেছেন। যদি মানবিক হৃদয়ের অধিকারী না হতেন তবে হয়তো তা সম্ভব হতো না। এখন খবর এসেছে তিনিও সেবা দিতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এটা শুনে মাথায় বাজ পড়লো! আমি নির্বাক হয়ে গেলাম। ডা. মঈন উদ্দিন সাহেবের শোক সইতে না সইতেই ডা. গৌতম দার সংবাদ আমাদের সুনামগঞ্জবাসীর মনে দুঃখের ঝড় বয়ে যাচ্ছে! গণমানুষের এমন ভালোবাসা অর্জন করা সহজেই কারো পক্ষে সম্ভব নয়; যেটা ডা. গৌতম সহজেই অর্জন করে নিয়েছিলেন।

আমি দেখেছি সুনামগঞ্জ শহরে যখন যেখানে গিয়েছেন নিজের কাজ নিয়ে সেখানেও সাধারণ মানুষ তাকে ঘিরে ধরেছে। একজন এই সমস্যা আরেকজন সেই সমস্যার কথা বলছে আর; তিনি একনিষ্ঠে ঔষধ লিখে দিচ্ছেন আর পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জগন্নাতবাড়ি মন্দিরের সম্ভবত সভাপতি ছিলেন তখন দেখেছি মন্দিরের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে যখন কমিটি নিয়ে বসেছেন তখন একদল মুসলিম মানুষেরা সেখানেও জড়ো হয়েছে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য। কমিটির অনেকেই বিরক্ত হলেও তিনি হাসিমুখে মন্দিরের কাজ ফেলে ওদের চিকিৎসা সেবা করেছেন। কতটুকু মানবতা থাকলে এরকম কাজ হয় সেটা প্রকৃত পাঠক মাত্রই বুঝবেন।

আমি শুনেছি, চেম্বারে এসে অনেক দরিদ্র রোগী বলত- স্যার খুব কষ্টে আছি হাতে টাকা নেই অসুখের কারণে পরিবার উপোস আছে। তিনি সেই দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে কোনো টাকা পয়সা নিতেন না। ভালো ঔষধ লিখে দিয়ে নিজে টাকা দিয়ে বলতেন- যান পাশের ফার্মেসি থেকে আমার কথা বলে ঔষধ নিয়ে খেতে থাকুন, ভগবান ভালো করে দিবেন। এই হলেন, আমাদের গরিবের বন্ধু ডা. গৌতম।

নতুন হাছননগর খেজাউড়ার একজন মুদি ব্যবসায়ি অজিত পাল। আমি যখন ওর দোকানে গেলাম কিছু সওদাপাতি কিনতে। সে আমাকে বলল- স্যার, আপনে তো লেখালেখি করেন। আমি শুনেছি আমাদের ডাক্তারসাব গৌতম বাবু নাকি করোনায় পড়েছেন। দয়াকরে, যদি খবরটা দেখাতেন। আমি মোবাইল ফেইসবুকে ঢুকে তাকে ডা.গৌতম দা’র কিছু ছবি ও করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কিছু স্ট্যাটাস দেখালাম। অবশ্য তারপূর্বেই তাকে নিয়ে আলোচনা ভাইরাল হয়ে গেছে। সে ডা. গৌতম দা’র ছবির দিকে চেয়ে কৃতজ্ঞচিত্তে বলল, বড় ভালো মানুষ তিনি। আমাদের খুবই মায়া করেন। আমার জটিল রোগের চিকিৎসা তিনিই করেছেন। আমি ১০০ টাকা দিলেও না দেখেই ড্রয়ারে রেখে দিতেন। আমার ঠিক মনে আছে, ভোরে হাঁটতেই এসেও আমাদের পাড়ায় অনেকেই রাস্তায় আটকিয়ে বিভিন্ন অসুখের ঔষধপথ্য লিখে দিতেন। আজকে সেই খবর শুনে মনটা মোচড় দিয়ে ওঠলো। আবারও ছবিরদিকে অশ্রুসিক্ত আঁখিতে অপলক চেয়ে আবেগতাড়িত হয়ে বলতে থাকে-‘স্যার, ভগবান আপনার মঙ্গল করবেন। চিন্তা করবেন না! আপনি নিশ্চই ভালো হয়ে যাবেন। আমরা আপনাকে ডা. মঈন উদ্দিনের মতো হারাতে দেবো না। প্রয়োজনে যমের হাত থেকেও আপনাকে ছিনিয়ে নিয়ে আসবো। তাকে নিয়ে সারাসুনামগঞ্জের ধর্ম-বর্ণ সবপেশাজীবী মানুষেরা চিন্তা করছেন। এটা সবার কৃতজ্ঞতাবোধ ও ভালোবাসার জায়গা থেকেই করছেন, যা প্রকৃতপক্ষে ডা. গৌতমেরমতো মানুষেরই একমাত্র প্রাপ্য। জয়তু মানবতা, জয়তু ডা.গৌতম।

ওবায়দুল মুন্সী/নতুন হাছননগর, সুনামগঞ্জ ২৭ এপ্রিল ২০২০