শিরোনাম
  সুনামগঞ্জে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা বৃত্তি ও বাইসাইকেল বিতরণ       করোনা ভাইরাস আতঙ্কে মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয়       সিলেটে আরো ২ জন করোনা পজিটিভ       পদক্ষেপ’র সুরমা ব্রাঞ্চের আওতায় ৯৬ টি পরিবারে নগদ টাকা ও ২০০ টি পরিবারে খাদ্য সামগ্রী বিতরন       দোয়ারাবাজারের খাসিয়ামারা বালুমহাল ইজারা না দেওয়ার দাবি       সিলেটে করোনায় মারা যাওয়া কারাবন্দির লাশ নেয়নি পরিবার       কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথম দু’জন করোনায় আক্রান্ত       ৩০ মে পর্যন্ত ছুটিতে যেসব বিধি-নিষেধ মানতে হবে       ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা, বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ       দেশে নতুন করোনা শনাক্ত ১০৪১, মৃত আরও ১৪ জন    


দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় জীবনের ঝুকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন সারা দেশের উদ্যোক্তারা। কিন্তু উদ্যোক্তাদের অপমান, অবহেলা করা হচ্ছে যা প্রশাসনিক চিঠিতে প্রতিয়মান হচ্ছে। আমাদের প্রিয় অভিভাবক, তহুরুল ইসলাম টুটুল এবং সৈকত স্যারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

ইউনিয়ন পরিষদ দেশের প্রাচীনতম স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। এটি তৃনমুল পর্যায়ে জনগণের সবচেয়ে কাছের সরকার। ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপিত তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক কেন্দ্র ‘ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার’ পরিষদকে নতুন মাত্রা প্রদান করেছে। ২০১০ সালের ১১ নভেম্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর কার্যালয় থেকে এবং নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)’র প্রশাসক মিস হেলেন ক্লার্ক ভোলা জেলার চর কুকরিমুকরি ইউনিয়ন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদে একটি করে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) একযোগে উদ্বোধন করেন। ইউডিসি’র মূল লক্ষ্য হল, ইউনিয়ন পরিষদকে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিনত করা, যাতে এই সব প্রতিষ্ঠান ২০২১ সালের মধ্যে একটি তথ্য ও জ্ঞান-ভিত্তিক দেশ প্রতিষ্ঠায় যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি এই সব কেন্দ্র সরকারি-বেসরকারি তথ্য ও সেবাসমূহ জনগনের কাছাকাছি নিয়ে যেতে, প্রযুক্তি বিভেদ দূর করতে ও সকল নাগরিককে তথ্য প্রবাহের আধুনিক ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করতে সুদুর প্রসারী ভূমিকা রাখতে পারে ।

স্যার ২০১০ সাল থেকে ইউডিসিতে আপনাদের একান্ত প্রচেষ্টায় শুরু থেকে আজ পর্যন্ত সরকার প্রদত্ত যত দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল তা সফলতার সাথে আমরা পালন করেছি। যেমন: তথ্য বাতায়ন আপডেট, জন্ম মৃত্যু নিবন্ধন, মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণ নিবন্ধন, হজ্ব নিবন্ধন, জনসচেতনতা মূলক প্রচার প্রচারনা, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের বিভিন্ন ডাটা এন্ট্রি , ই-চালান, শহর থেকে শুরু করে প্রত্যান্ত অঞ্চল কে ডিজিটালাইজড করণ ইত্যাদি। বর্তমান করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় লিফলেট বিতরণ, মাইকিং, প্রবাসীদের তালিকা, বাইরের জেলা থেকে আগত ব্যক্তিদের তালিকা, হোমকোয়ারেন্টাইন নিশিচত করনে সেই চিহ্নিত বাড়ি কোয়ারেন্টাইন/লকডাউন স্টিকার লাগনো, বিভিন্ন ভাতাভোগির ডাটাবেজ, ত্রানের তালিকা প্রণয়ন, বিভিন্ন দাপ্তরিক অফিসে চেয়ারম্যান, সচিব ও ত্রাণ কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন টাইপ ও প্রেরণ, এজেন্ট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে মার্তৃত্বকালীন ভাতা সহ বিভিন্ন ভাতা ও সেবা প্রদান, ত্রাণ বিতরনে সহযোগীতা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করণ সহ সেচ্ছাসেবী কাজে নিয়োজিত থাকার পরও আমাদেরকে মানে উদ্যোক্তাদের অবহেলা করে বিভিন্ন চিঠি প্রেরণ করা হচ্ছে। যা দেখে আমাদের কষ্ট হয়, কাজের গতি হারিয়ে ফেলি। সদ্য ইস্যুকৃত টাংগাইল, রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দুইটি চিঠিতেও এমনটা দেখা গেল।

যে চিঠিতে করোনা প্রভাব মোকাবেলায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, সচিব, ইউপি সদস্য, হিসাব-সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ও গ্রাম পুলিশের মাঝে করোনা সুরক্ষা সরঞ্জামাদি দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দুঃখ জনক হলেও সত্য যে সেই চিঠিতে উদ্যোক্তার কথা উল্লেখ করা হয়নি। ২০১৪ সাথে উদ্যোক্তা মহা সম্মেলনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের কে জাতির ডিজিটাল সন্তান উপাধি দিলেও বর্তমানে প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ তা হয়তো ভুলে গেছেন।

স্যার দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আমরাই জীবনের ঝুকি নিয়ে পাবলিক সেবা নিশ্চিত সহ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে সরকারের পাশে আছি। অথচ বিভিন্ন ভাবেই আমাদেরকে আলাদা করা হচ্ছে, অবহেলা, অপমান করা হচ্ছে। সংযুক্ত চিঠিই এর শেষ প্রমাণ। তাই এটুআই আমাদের অভিভাবক হওয়ায় এই চিঠি সহ এই রুপ অন্যান্য জেলার অন্যান্য চিঠিতে উদ্যোক্তাদের নাম সংযুক্ত করার জন্য আপনাদের মাধ্যমে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিনীত অনুরোধ করছি।

অনুরোধক্রমে- সকল উদ্যোক্তাদের পক্ষে ওবায়দুল হক মিলন , উদ্যোক্তা, পূর্ব পাগলা ইউডিসি, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, সুনামগঞ্জ।

শান্তিবার্তা ডট কম/২৭ এপ্রিল২০২০