শিরোনাম
  করোনা আক্রান্ত ছিলেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান       সুনামগঞ্জে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা বৃত্তি ও বাইসাইকেল বিতরণ       করোনা ভাইরাস আতঙ্কে মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয়       সিলেটে আরো ২ জন করোনা পজিটিভ       পদক্ষেপ’র সুরমা ব্রাঞ্চের আওতায় ৯৬ টি পরিবারে নগদ টাকা ও ২০০ টি পরিবারে খাদ্য সামগ্রী বিতরন       দোয়ারাবাজারের খাসিয়ামারা বালুমহাল ইজারা না দেওয়ার দাবি       সিলেটে করোনায় মারা যাওয়া কারাবন্দির লাশ নেয়নি পরিবার       কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথম দু’জন করোনায় আক্রান্ত       ৩০ মে পর্যন্ত ছুটিতে যেসব বিধি-নিষেধ মানতে হবে       ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা, বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ    


শান্তিবার্তা ডেস্কঃ

বিশ্বের মহামারি মরণব্যধি করোনা। বিশ্বের সাথে বাংলাদেশও মহামারির কবলে। সিলেটে এখন কার থেকে কার কাছে ভয়ঙ্কর এ রোগের ভাইরাসটি সংক্রমিত হচ্ছে- তা এখন আর বলা যাচ্ছে না। এটাকে বলে করোনা সংক্রমণের চতুর্থ অর্থাৎ- শেষ ধাপ। এরপরে আর কোনো ধাপ নেই। আর যে অঞ্চল শেষ ধাপে চলে যাবে সে অঞ্চলের জন্য রীতিমতো অশনিসংকেত। আর বর্তমানে করোনার শেষ ধাপের দিকেই ধাবিত হচ্ছে পুরো সিলেট বিভাগ।

সিলেট বিভাগে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মরণব্যাধি করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। গতকাল বুধবার সিলেট বিভাগে একই দিনে ১৩ জন আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। যা চরম আতঙ্কে ফেলে দিয়েছে সিলেটবাসীকে।
সিলেটে এতদিন সংক্রমণের লিংক বা কার-কাদের কাছ থেকে সংক্রমিত হচ্ছে সেটি চিহ্নিত করা গেলেও সিলেটে এখন আর তা প্রায় বলা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেটের বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, একটি দেশ বা অঞ্চলের মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ৪ টি ধাপ রয়েছে। যে ধাপগুলোর মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে একটি দেশ বা এলাকায় করোনা ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, প্রথম ধাপ হচ্ছে- এ পর্যায় হলো এমন অবস্থা যখন কোনো একজন ব্যক্তি আক্রান্ত অন্য দেশ থেকে আরেকটি দেশে প্রবেশ করে। এবং পরীক্ষা করে তার শরীরে করোনা আক্রান্ত নিশ্চিত হয়। এ পর্যায়কে প্রথম ধাপ বলা হয়।

দ্বিতীয় ধাপ হচ্ছে- এই ধাপে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসে যখন তার নিকটাত্মীয় বা সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিরাও আক্রান্ত হন। এটিকেই দ্বিতীয়ধাপ বলা হয়ে থাকে।

তৃতীয় ধাপ হচ্ছে- এই ধাপে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে একটু বেশি পর্যায়ে ছড়িয়ে যায়। এ পর্যায়ে বেশ অনেক সংখ্যক ব্যক্তি আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এ পর্যায়ে শুধু নিকটাত্মীয়ের ভেতর রোগ ছড়ানোটা সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং ছড়িয়ে পড়তে থাকে লোকালয়ে।

আর চতুর্থ বা শেষ ধাপ হচ্ছে- এটি এমন একটি স্ট্যাপ, যেটিকে খুব খারাপ অবস্থা বলে বিবেচনা করা হয়। এই ধাপে একটা দেশ বা এলাকায় এমনভাবে রোগটি ছড়ায়, তখন এমন কোনো পয়েন্টকে বা লিংককে আলাদা করা যায় না যে- অমুক লোক কিংবা তমুক লোকালয় থেকে রোগটি ছড়াচ্ছে।

ডা. আনিস বলেন, আর সিলেট প্রায় সর্বশেষ এই ধাপেই পা দিতে চলেছে।

উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার সিলেটে মাত্র একই দিনে ১৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন ইন্টার্ন ডাক্তার এবং শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের স্টোর কিপার রয়েছেন।

বাকিদের মধ্যে ৫ জন হবিগঞ্জ জেলার, ৪ জন সুমানগঞ্জের ও ২ জন মৌলভীবাজারের।

এ নিয়ে সিলেট বিভাগে মোট ৩৩ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হলেন। এর মধ্যে সিলেট জেলার ৬ জন, হবিগঞ্জের ১৮ জন, মৌলভীবাজারের ৩ জন ও সুনামগঞ্জের ৬ জন রয়েছেন।

শান্তিবার্তা ডট কম/২৩ এপ্রিল২০২০