শিরোনাম


স্টাফ রিপোর্টার

সময় কমে আসছে।দ্রুত সুনামগঞ্জের হাওরের বোরো ধান কাটা শেষ করতে হবে।এবার জেলায় বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা ১২লক্ষ মেট্রিকটনের বেশী। এর ভেতর অামার নির্বাচনী এলাকায় লক্ষ্যমাত্রা সুনামগঞ্জ সদরে ৯৪হাজার ৭শত ২৪মেট্রিকটন আর বিশ্বম্বরপুর উপজেলায় ৬১হাজার ৫শত ৯৮ মেট্রিকটন।
আমার নির্বাচনী এলাকাসহ পুরো জেলায় ধান কাটা শুরু হয়েছে। সুনামগঞ্জে অন্যান্য জেলা থেকে প্রায় ৫হাজার ধানকাটা শ্রমিক এসেছেন।তারা ধান কাটায় অংশ নিচ্ছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা হাওর এলাকায় সরকারী ভর্তুকিতে এবার সুনামগঞ্জে আরো ৩৩টা এবং নেত্রকোনায় ৪০টা ধানকাটার মেশিন পাঠিয়েছেন। এসব মেশিনের অধিকাংশ ব্যাবহার হচ্ছে।ভৌগলিক কারনে মুলত আমাদের ধান কাটা শ্রমিক নির্ভর।হাওরের উচু এলাকায় মেশিন ব্যাবহার করা যায়। বৃস্টি হলে ভেজা মাটিতে গভীর হাওরে মেশিন কাজ করতে পারেনা।
জেলা এবং উপজেলা প্রশাসন বাহিরের ধান কাটা শ্রমিকদের থাকার জন্য স্কুল এবং তাবু বা প্যান্ডেলের ব্যাবস্থা করেছেন।
সদর এবং বিশ্বম্ভরপুরে মুলত বিআর ২৮জাতের ধান এখন কাটা হচ্ছে। কয়েকদিনের ভেতর বিআর ২৯জাতের ধান কাটা শুরু হবে।
বিআর ২৮এর পরে বিআর ২৯ পাকা শুরু হয়। বিশ্বম্ভরপুরে ধান কাটা শ্রমিকের তেমন সংকট হবার কথা নয়। বরং কয়েকদিন আগে আমার সাথে আলাপ করেন ধনপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম তালুকদার। তাদের এখান থেকে দিরাই উপজেলায় ধান কাটা শ্রমিক পাঠানোর বিষয় জানায়।
অন্যান্য বছরের আবহাওয়ার বিচারে আমাদের ফসল কাটার সময় কমে আসছে। অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে হাতে আছে কয়েকদিন।
কারন ২০১৭সালে হাওরে পানি প্রবেশ শুরু হয় ২৯মার্চ থেকে। ২০১৮তে পানি প্রবেশ শুরু হয় ৭মে থেকে। ২০১৯এ শুরু হয় ২ মে থেকে।
এবারের আবহাওয়ার সংবাদও ভাল না।
বলা হচ্ছে ১৭-২১ এপ্রিল পর্যন্ত ২২০মিলিমিটার বৃস্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবার ভারতের মেঘালয় ও বারাক অববাহিকায় ১৫০-২৫০মিলিমিটার বৃস্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের এসব অববাহিকায় বৃস্টি হলেই আমাদের এখানে পাহাড়ী ঢল নামে। যে ঢলে তলিয়ে যায় ফসল। আবার দেশের অভ্যন্তরে অতিবৃস্টি হলে জলাবদ্ধতায় ফসলহানী হয়। করচার হাওরে জলাবদ্ধতা থেকে ফসল রক্ষায় একবার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। প্রশাসন, স্থানীয় লোকজন নিয়ে পাম্প করে হাওর থেকে পানি বের করেছিলাম। অনেক লোককে একাজে সক্রিয় করেছিলাম। সফল ও হয়েছিলাম। পরে টানা কয়েকদিনের বৃস্টিতে আমরা ব্যার্থ হই।
তবে এখন পর্যন্ত তেমন বেশী বৃস্টিপাত হয়নি। আবার হতেও সময় লাগবেনা। অতীত অভিজ্ঞতা সেটাই বলে। বিগত কয়েক বছরের হাওরে পানি প্রবেশের সময় দেখলেই বুঝা যাচ্ছে সময় ফুঁরিয়ে আসছে। তাই দ্রুত ধান কাটা শেষ করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিবছর বজ্রপাতে হাওরে ধান কাটা শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এবার এর মধ্যেই সুনামগঞ্জে কয়েকজন বজ্রপাতে মৃত্যুবরণ করেছেন। বজ্রপাতে মৃত্যুবরণকারীদের জন্য সরকারের বিশেষ আর্থিক সহায়তা চালু করতে হবে। পরম দয়াশীল আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

শান্তিবার্তা ডট কম/২০ এপ্রিল২০২০/ পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ এমপি