শিরোনাম


বিশেষ প্রতিনিধিঃ

সিলেটে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে নগরীর মাউন্ট এডোরা হাসপাতাল। রোববার নগরীর নয়াসড়কে বেসরকারি এই হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। এছাড়া নগরীর রিকাবীবাজার এলাকার ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করোনাআক্রান্ত রোগীদের আনুষঙ্গিক বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার করানোর পরিকল্পনা করছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

সিলেটে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন রোগীদের চিকিৎসায় নগরীর শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালকে করোনা আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই হাসপাতালেই চলছে এ সংক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা।

শামসুদ্দিন হাসপাতালে শয্যা রয়েছে ১০০টি। রোগী বেড়ে গেলে কি করা হবে এমন ভাবনা থেকেই মাউন্ট এডোরা হাসপাতালকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এছাড়া সিলেটে করোনাভাইরাস সনাক্তকরণ পরীক্ষা হচ্ছে ওসমানী মেডিকেল কলেজের অণুজীববিজ্ঞান (মাইক্রোবায়োলজি ও ভাইরোলজি) বিভাগের ল্যাবে। সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারকেও এই পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে রোববার নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

সিলেটে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, করোনা আক্রান্ত রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আনুষঙ্গিক বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। এজন্য রিকাবিবাজার এলাকার ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে প্রাইভেট মেডিকেল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ওনার্স এসোসিয়েশন সিলেটের সভাপতি ডা. নাসিম আহমদ বলেন, শনিবার করোনাভাইরাস প্রতিরোধ বিভাগীয় কমিটির সভায়ই করোনা রোগী বেড়ে গেলে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের নয়াসড়ক শাখা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়। মাউন্ট এডোরা কর্তৃপক্ষও এতে সম্মতি প্রদান করে। এই সিদ্ধান্তের পর রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপ পরিচালক, সিভিল সার্জন, সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা এই হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এছাড়া যদি রোগী আরও বেড়ে যায় সেজন্য নর্থ ইস্ট হাসপাতালকেও প্রস্তুত রাখা হবে।

তবে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে গ্রাহক সুরক্ষা বিভাগের ব্যবস্থাপক আব্দুল কাইয়ুম রফিক বলেন, করোনা রোগীদের জন্য আমাদের হাসপাতালের নয়াসড়ক শাখাটি ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী পরিচালক ডা. মো. আনিসুর রহমান বলেন, আমাদের শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে ১০০ শয্যা রয়েছে। এখন রোগীর সংখ্যা যদি একশ’ ছাড়িয়ে যায় তখন অন্য হাসপাতালেই যেতে হবে। এজন্য আমাদের প্রথম পছন্দ মাউন্ট এডোরা হাসপাতাল। এটি নগরীর ভেতরে আছে। পর্যাপ্ত আইসিইউও রয়েছে। এছাড়া তাদের আরেকটি শাখা থাকায় অন্য রোগীদের এখান থেকে সরিয়ে নেওয়াও সম্ভব।

আনিসুর রহমান বলেন, করোনাআক্রান্ত রোগীদের এক্সরেসহ নানাবিধ পরীক্ষার প্রয়োজন পড়ে। আমরা চাচ্ছি না তাদের ওসমানী হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে নিয়ে পরীক্ষা করাতে। তাতে অন্য রোগীরা সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এজন্য ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ব্যবহারের চিন্তা করছি আমরা। তবে কোনো কিছুই এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এগুলোতে রোগীর সেবা দেওয়ার জন্য লোকবলও জোগাড় করতে হবে।

শান্তিবার্তা ডট কম/১৩ এপ্রিল২০২০