শিরোনাম


শান্তিবার্তা ডেস্ক ::

প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস সংক্রমনের ঝুঁকির  কারণে যেখানে প্রধানমন্ত্রীর সভা বাতিল করা হয়েছে সেখানে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে অনুষ্ঠেয় একটি উপ-নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বড় বড় শোডাউন করছেন। এতে জনমনে আতঙ্ক বাড়ছে।

তাদের এই কর্মকাণ্ডে প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস সংক্রমনের ঝুঁকি বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ। এ নিয়ে সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে।

জানা যায়, জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাদব ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আগামী ২৯ মার্চ উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। করোনাভাইরাসের ঝুঁকির মাঝে অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে জনসমাগম সীমিত করার কথা থাকলেও হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার ধারাবাহিক শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়েছে ক্ষমতাসীন দল মনোনীত প্রার্থী নূরে আলম সিদ্দিকী তপনের পক্ষে। ওইদিন বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যার মধ্যে ইউনিয়নের চালবন্দ, মথুরকান্দি ও বাগবেড় বাজারে পৃথক তিনিটি শোডাউন করা হয়।

তিনটি শোডাউনে উপস্থিত ছিলেন জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন শফিক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম. এনামুল কবির ইমন-সহ জেলা আওয়ামী লীগের অনেক দায়িত্বশীল নেতা।

স্থানীয়রা জানান, করোনাভাইরাসের কারণে দেশব্যাপী যখন বিয়েশাদি-সহ সামাজিক, রাজনৈকি সকল ধরনের সভা-সমাবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, এমনকি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান সীমিত করা হয়েছে, বাতিল করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সভা পর্যন্ত- সেখানে একটি ইউনিয়নের উপনির্বচনকে সামনে রেখে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে শোডাউনে হতবাক হয়েছেন সাধারণ মানুষ।  

শোডাউনের মাধ্যমে প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস সংক্রমনের সমূহ ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন শোডাউনে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের হোম কোয়ারান্টাইনে রাখা প্রয়োজন, যাতে তাদের মাধ্যমে প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস না ছড়ায়।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মতিউর রহমান বলেন, করোনাভাইরাস একটি বৈশ্বিক মহামারি। এ নিয়ে বাংলাদেশসহ গোটাবিশ্ব উদ্বিগ্ন।সেখানে আমাদের দলের নেতৃবৃন্দকে এ ব্যাপারে আরো দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১০ জনের বেশি মানুষের সমাগম ঘটানো কিছুতেই ঠিক হবে না।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচন যেহেতু দলীয় প্রতীকে হচ্ছে, সেহেতু আমাদের নেতাদের নির্বাচনে দলের প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিতে হবে। কিন্তু সেটা যেন কিছুতেই মানুষের জন্য উদ্বেগের কারণ না হয়। ( সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন)